আদমদীঘিতে জলমহাল ইজারায় ১২ লাখ টাকা নিয়ে কর্মচারী লাপাত্তা
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘিতে সরকারি জলমহাল ইজারার ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রসিদ) ও চুক্তিনামা ফি বাবদ প্রায় ১২ লাখ টাকা নিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের এক কর্মচারী উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে টাকা জমা দিয়েও ডিসিআর, চুক্তিনামা ও জলমহালের দখল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন একাধিক ইজারাগ্রহীতা।
অভিযুক্ত কর্মচারীর নাম ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ। তিনি আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী হিসেবে কর্মরত।
ইজারাগ্রহীতাদের অভিযোগ, চলতি বছর প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় সরকারি জলমহাল ইজারা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় অনুমোদিত জলমহালের ইজারাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ডিসিআর ও চুক্তিনামার ফি বাবদ নগদ টাকা গ্রহণ করেন কর্মচারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ। তবে ওই টাকার একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়েই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
উপজেলা জলমহাল কমিটি সূত্রে জানা যায়, বাংলা ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ সন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য সরকারি জলমহাল ইজারা দিতে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরুতে প্রথম দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির মাধ্যমে ১০টি জলমহাল ইজারা দেওয়া হয়।
পরে মে মাসে দ্বিতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হলে ৮১টি সিডিউল জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই শেষে ৬৬টি জলমহালের দরপত্র অনুমোদন করে উপজেলা জলমহাল ইজারা কমিটি।
এরপর অনুমোদিত ইজারাগ্রহীতাদের ডিসিআর ও চুক্তিনামার জন্য নির্ধারিত টাকা জমা দিতে নোটিশ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, ইজারাগ্রহীতারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের কর্মচারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর কাছে নগদ টাকা জমা দেন।
ইজারাগ্রহীতাদের দাবি, ইব্রাহিম কয়েকটি জলমহালের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে ২৩ জনকে ডিসিআর প্রদান করেন। এরপর তার কাছে থাকা প্রায় ১২ লাখ টাকা নিয়ে তিনি প্রায় দেড় মাস আগে হঠাৎ কর্মস্থলে অনুপস্থিত হন। এরপর থেকে তিনি আর অফিসে যোগ দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে কাশিমালকুড়ি বেকার সমিতি, বিনসারা বেকার সমিতি, মুরইল বেকার সমিতিসহ বেশ কয়েকটি সমিতি এখনো ডিসিআর পায়নি বলে জানা গেছে। ফলে টাকা জমা দেওয়ার পরও জলমহালের দখল বুঝে না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইজারাগ্রহীতারা।
এ ঘটনায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় ইজারাগ্রহীতাদের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা জলমহাল ইজারা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, “আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ইতোমধ্যে তিনি কিছু টাকা ফেরত দিয়েছেন এবং কিছু ইজারাগ্রহীতাকে ডিসিআরও দেওয়া হয়েছে। টাকা উদ্ধার হলে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে অভিযুক্ত কর্মচারী ইব্রাহিম খলিলুল্লাহর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

