কিশোরগঞ্জে ১৩ মণ ওজনের ষাঁড়ের দাম ৪ লাখ টাকা!
মোস্তফা কামাল
কিশোরগঞ্জে কোরবানির পশুর হাট জমে উঠেছে। জেলার সর্ববৃহৎ শহরের শোলাকিয়া গরুর হাটে ১৩ মণ ওজনের একটি ষাঁড়ের দাম হাঁকা হচ্ছে ৪ লাখ টাকা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে শোলাকিয়া হাটে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকা থেকে খামারি ও কৃষকরা মোটাতাজা দর্শনীয় প্রচুর ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। কোরবানির সময় সাধারণত হাট জমজমাট থাকে রাত ১২টা পর্যন্ত। কখনো কখনো গরু নিয়ে বিক্রেতারা হাটেই রাত কাটান।
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়া নিজের গাভীর গর্ভে জন্ম নেওয়া একটি শঙ্কর জাতের বড় লাল রঙের ষাঁড় নিয়ে এসেছেন। এর ওজন ১৩ মণ। ষাঁড়টির দাম হাঁকছেন ৪ লাখ টাকা। সদর উপজেলার কর্শাকড়িয়াইল এলাকার আলতু মিয়া বড় দুটি ষাঁড় এনেছেন। লাল রঙেরটির নাম ‘লাল বাহাদুর’, কালোটির নাম ‘কালা বাহাদুর’। এক টন ওজনের লাল বাহাদুরের দাম হাঁকছেন ৭ লাখ টাকা, আর ১৫ মণ ওজনের কালা বাহাদুরের দাম হাঁকছেন ৩ লাখ টাকা। লাল বাহাদুরের দাম উঠেছে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। লাল বাহাদুর ষাঁড়টি সিন্ধি জাতের, আর কালা বাহাদুর শঙ্কর জাতের। দু’টি ষাঁড়ই ঘরের গাভীর বাছুর। এসব ষাঁড়কে কেবল ঘাস, কাঁচা ধানগাছ, ভুসি, ভাত, খৈল আর চিটাগুর খাইয়েছেন। ফিতা দিয়ে ষাঁড়ের সিনার বেড় আর দেহের দৈর্ঘ্য পরিমাপ করে ওজন নির্ণয় করেছেন। এছাড়াও ৫০ হাজার থেকে লাখ টাকা মূল্যের প্রচুর ষাঁড় উঠেছে। মূলত এসব ষাঁড়ের ক্রেতাই বেশি। জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, জেলার ১৩টি উপজেলায় নিবন্ধিত পশুর হাট রয়েছে ৩৮টি, আর অনিবন্ধিত হাট রয়েছে ৯৭টি। সুস্থ পশু বিক্রি নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি উপজেলায় অন্তত পাঁচটি করে সভা করা হয়েছে খামারি এবং কসাইদের নিয়ে। এছাড়া জেলার হাটগুলোতে ৪৭টি মেডিক্যাল টিম রয়েছে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য, যেন সকল ক্রেতাই সুস্থ পশু কিনে কোরবানি দিতে পারেন।

