পাকুন্দিয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবনে মাদকের আড্ডা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনে দীর্ঘদিন ধরে চলছে মাদক সেবন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড। স্থানীয়দের দাবি, গত প্রায় ছয় মাস ধরে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভবনটিকে ঘিরে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা বাড়ে। এতে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের আবাসিক ভবনটির দরজা-জানালা ভেঙে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকা ভবনটির সুযোগ নিয়ে সেখানে মাদকের আড্ডা বসে। পাশাপাশি রাতভর নারী-পুরুষের অনৈতিক কর্মকাণ্ডও চলে বলে অভিযোগ তাদের।

স্থানীয়রা জানান, ভবনটিতে এসব কর্মকাণ্ডে কয়েকবার বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা উল্টো হুমকি দিয়েছেন। ফলে ভয়ে অনেকেই সরাসরি প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না।

এদিকে রোববার রাতে স্থানীয় কয়েকজন ওই ভবনটির আশপাশে নজরদারি করেন। তাদের দাবি, অভিযুক্ত খাইরুলের দোকানে সারারাত অবস্থানের পর ভোরের দিকে এক নারী সেখান থেকে বের হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবনের দিকে যান। পরে সকালে স্থানীয়রা ওই নারীকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে তিনি স্বীকার করেন অভিযুক্তরা তাকে এনেছে।।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই আবাসিক ভবনকে কেন্দ্র করে অপরিচিত মানুষের আনাগোনা শুরু হয় এবং তা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। এতে আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

জাঙ্গালিয়া বাজারের ব্যাবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে বাজারের পাহারাদারদের নিয়ে নারীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর কয়েকজনের নাম বলে। পরবর্তীতে অভিযুক্ত নিষেধ করা হয়। কিন্তু উল্টো তারা আরও হুমকি দেয়।

জাঙ্গালিয়া বাজারের আরেক ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি আশরাফুল আলম রিপন আক্ষেপ করে বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য সেবার কথা চিন্তা করে আমার বাবা (গোলাম বারী) ও সুধির চন্দ্র বণিক হাসপাতালের জন্য জায়গা দান করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রশাসনের কাছে আমরা চাই, দ্রুত আবাসিক ভবনটি সংস্কার করে ব্যবহারযোগ্য করে মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর হস্তক্ষেপ নেয়া হউক।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুরে এ আলম বলেন, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবনটি ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের তত্বাবধানে রয়েছে। আমরা তাদের সাথে কথা বলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলবো।

এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামিমা আক্তার খাতুন বলেন, ইতিমধ্যে ওই আবাসিক ভবনটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। দ্রুত নিলামের মাধ্যমে ভাঙ্গা হবে। এদিকে আমরা নতুন একটি ভবনের জন্যও চাহিদাপত্র উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস বলেন, একট সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের কার্যক্রম কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে দ্রুত প্রকৃয়া সম্পন্ন করতে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ