“জাকির ভাই, আমাকে জীবন ভিক্ষা দেন”— ফোনের ওপাশে যুবকের আহাজারি
ফারজানা আক্তার, কুলিয়ারচর প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ফরিদপুরের কাঠ ব্যবসায়ী হানিফ মিয়া (৩২) হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন পলাতক রয়েছেন।
নিহত হানিফ মিয়া উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে।
নিহতের স্ত্রী আয়েশা বেগম অভিযোগ করেন, বুধবার রাত প্রায় ১০টার দিকে এলাকার আনোয়ার হোসেন ফোন করে তার স্বামীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তিনি সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১২টা ৪৭ মিনিটে হানিফের মোবাইল ফোন থেকে কল আসে। তবে হানিফ কোনো কথা বলতে পারেননি।
আয়েশা বেগম বলেন, ফোনের ওপাশ থেকে তিনি শুধু শুনতে পান, “জাকির ভাই, আমাকে জীবন ভিক্ষা দে।” এ সময় জাকির হোসেন বলতে থাকেন, “তোর কোনো বাপ আছে, বল— পারলে তোকে বাঁচাতে?”
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, হানিফকে জাকির হোসেনের বাড়ির ভেতরে আটকে রাখা হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বহু চেষ্টা করেও বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে হানিফের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতাররা হলেন— ফরিদপুর এলাকার ছবর আলীর ছেলে লস্কর আলী (৭৫), হোসেন ব্যাপারীর ছেলে আয়াত উল্লাহ্ (৩২), লস্কর আলীর স্ত্রী হেলেনা বেগম (৬০), জাকির হোসেনের স্ত্রী খুকি বেগম (৫০) এবং রাসেল মিয়ার স্ত্রী নাদিয়া আক্তার (২৩)।
অন্যদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা সকালে জাকির হোসেনের বাড়িতে আগুন দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় পরিচিত। হানিফ মিয়া তার মাদক ব্যবসায় বাধা দিতেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে স্থানীয়রা।
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

