হোসেনপুরে ঘনঘন লোডশেডিং, অতিষ্ঠ ৬১ হাজার গ্রাহক

শামসুল হক, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। সামান্য আবহাওয়া পরিবর্তন—মেঘ, রোদ কিংবা বাতাস—হলেই বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় কোনো কারণ ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে-রাতে অসংখ্যবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়া করছে। গত সপ্তাহে অন্তত ৭০-৮০ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তারা। এতে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন, ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন কাজকর্ম।

জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৬১ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ১৫-১৬ মেগাওয়াট। তবে বরাদ্দ পাওয়া যায় মাত্র ৫-৬ মেগাওয়াট, যার ফলে নিয়মিত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার ওভারহেড খোলা লাইনের কারণে ঝড়-বৃষ্টিতে সহজেই ত্রুটি দেখা দেয়।

হোসেনপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জের যশোদল ট্রান্সমিশন কেন্দ্র থেকে ১২টি লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কোনো এক লাইনে সমস্যা দেখা দিলে পুরো সিস্টেম বন্ধ রেখে ত্রুটি শনাক্ত করতে হয়। এতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হোসেনপুরের সাথে তাড়াইল, কটিয়াদি ও নান্দাইল উপজেলার কিছু অংশ একই লাইনে যুক্ত থাকায় দূরের কোনো এলাকায় সমস্যা হলেও হোসেনপুরে তার প্রভাব পড়ে। তাড়াইলে আলাদা সাবস্টেশন চালু হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।

অন্যদিকে, গ্রাহকদের অভিযোগ—লোডশেডিং নিয়ে অভিযোগ করলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। চর বিশ্বনাথপুরের বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বলেন, “বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ দিলে মিটার সমস্যা বা অবৈধ সংযোগের অভিযোগ এনে জরিমানা করা হয়। তাই অনেকেই ভয়ে কিছু বলেন না।”

এ বিষয়ে হোসেনপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম)-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয়রা দ্রুত সমস্যার সমাধান করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ