তীব্র গরমে রাজশাহীতে ৫–৬ ঘণ্টা লোডশেডিং, জনজীবনে চরম ভোগান্তি

শিবলী সাদিক, রাজশাহী:

তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রাজশাহীতে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিংয়ের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। কোথাও কোথাও প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে প্রচণ্ড গরমে নাভিশ্বাস উঠেছে মানুষের।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। প্রখর রোদ ও দাবদাহে দুপুরের পর শহরের রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

নগরের দড়িখড়বোনা এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, “এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই। গরমে অতিষ্ঠ হয়ে বাড়ির বারান্দায় বসে আছি। এই সময় বিদ্যুৎ না থাকলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে? গরমে প্রাণ যায় যায় অবস্থা।”

শুধু নগর নয়, জেলার বেশিরভাগ এলাকাতেই একই চিত্র দেখা গেছে। শহরে দিনে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হলেও রাতে কিছুটা কম থাকে। তবে গ্রামাঞ্চলে রাতেও বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। এতে একদিকে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র চালাতে না পেরে কৃষকরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই (নেসকো) পিএলসির প্রধান প্রকৌশলী (অপারেশন) জিয়াউল ইসলাম বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও ওই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

নেসকো বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করে। সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর চেয়েও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।

 

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ