পাটুরিয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি, যাত্রী ও পরিবহনশ্রমিকদের ভোগান্তি

মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া নৌপথের পাটুরিয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। আজ শুক্রবার সকালে পাটুরিয়া প্রান্তে দেড় শতাধিক যাত্রীবাহী বাস ও পাঁচ শতাধিক পণ্যবাহী গাড়িকে নদী পারাপারের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। এতে দীর্ঘ সময় ঘাটে আটকে থেকে যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ির শ্রমিকেরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা তিন দিনের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার কারণে ঘাটে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। এ ছাড়া মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের বাংলাবাজার নৌপথে ভারী যানবাহনে পারাপার বন্ধ থাকায় এসব যানবাহন পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে আসছে। পাশাপাশি নদীতে স্রোতের কারণে ফেরিগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। এসব কারণে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যানবাহনের লম্বা সারি তৈরি হয়েছে।

র্তমানে ১৭টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নামের একটি ফেরি পাটুরিয়ায় ভাসমান কারখানায় মেরামত করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকা ছেড়ে আরসিএল মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাসের সারি ছিল। এখানে দেড় শতাধিক যাত্রীবাহী বাস আটকা রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে দুটি ট্রাক টার্মিনালে তিন শতাধিক পণ্যবাহী গাড়ি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া ঘাট এলাকায় যানবাহনের বাড়তি চাপ এড়াতে প্রায় ছয় কিলোমিটার আগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বোয়ালিয়া এলাকায় দুই শতাধিক সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি অপেক্ষায় রাখা হয়েছে।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ কবির বলেন, পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যানবাহনের বাড়তি চাপ এড়াতে উথুলী সংযোগ সড়কে সাধারণ পণ্যবাহী গাড়ি অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ কমলে এসব পণ্যবাহী গাড়ি সিরিয়াল অনুযায়ী ঘাট এলাকায় পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা সেতুর পিলারে ফেরির ধাক্কা লাগার পর থেকে শিমুলিয়া ও বাংলাবাজার নৌপথে ফেরিতে ভারী যানবাহনে পারাপার বন্ধ রয়েছে। এ কারণে কয়েক দিন ধরে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ পড়েছে।

আবার তিন দিনের ছুটি পেয়ে অনেকে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া বিধিনিষেধে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় যাঁরা এত দিন বাড়িতে যেতে পারেননি, তাঁদের অনেকেই এই ছুটিতে বাড়িতে যাচ্ছেন। এ কারণে পাটুরিয়ায় যানবাহন ও যাত্রীর চাপ বেড়েছে। এদিকে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় পুরাতন ফেরিগুলোর যানবাহন পারাপারে বেগ পেতে হচ্ছে। এতে যানবাহন পারাপারে কিছুটা সময় বেশি লাগছে।

সূত্র আরও জানায়, যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার এই রুটে বহরে তিনটি ফেরি যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে ১৭টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। তবে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নামের একটি ফেরি পাটুরিয়ায় ভাসমান কারখানায় মেরামত করা হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে যাত্রীবাহী পরিবহন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে।

যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস আগে পারাপার করা হচ্ছে। সাধারণ পণ্যবাহী গাড়িরও প্রচণ্ড চাপ রয়েছে।

মো. মহিউদ্দিন রাসেল, সহকারী ব্যবস্থাক (বাণিজ্য), বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়

পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় এক বাসযাত্রী সোলায়মান হোসেন (৪৫) বলেন, তিন দিনের ছুটি থাকায় সপরিবার আজ ভোরে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তবে সকাল আটটার দিকে পাটুরিয়ার আরসিএল মোড় এলাকায় এসে তাঁদের বাস আটকা পড়েছে। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পরও পারাপারের জন্য ফেরির টিকেট মেলেনি। ফেরিতে উঠতে আরও ঘণ্টা দুয়েক লেগে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এ দিকে আজ সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ায় পাটুরিয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে। আরসিএল মোড় এলাকায় যশোরগামী যাত্রী সুলতান হোসেন বলেন, ‘তিন ঘণ্টা ধরে ঘাটে বাসের মধ্যে আটকে আছি। আশপাশে খাবারের দোকানও নাই। বৃষ্টির জন্য কোথাও যেতেও পারছি না।’

বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাক (বাণিজ্য) মো. মহিউদ্দিন রাসেল বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস আগে পারাপার করা হচ্ছে। সাধারণ পণ্যবাহী গাড়িরও প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। তবে যাত্রীবাহী বাসের চাপ কমে এলে এসব গাড়ি পারাপার করা হবে।

Source: Prothomalo

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries