কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামীলীগ-বিএনপির দ্বি-মূখী লড়াই
এস এম তারেক নেওয়াজ:
হোসেনপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন ১৬২ কিশোরগঞ্জ-১। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লক্ষ ৩০ হাজার ১৮৭ জন। এর মধ্যে হোসেনপুর উপজেলায় ১লক্ষ ৩৫ হাজার ১০২জন এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৮৫জন। ভোট কেন্দ্র হোসেনপুর উপজেলায় ৫৬টি এবং কিশোরগঞ্জে ১১০টি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি-আ’লীগের বিরামহীন গনসংযোগে জমে উঠেছে কিশোরগঞ্জ-১ (হোসেনপুর- সদর) আসনের নির্বাচনী মাঠ। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বিরামহীন মাইকিং,মিছিল,পথসভা ও গনসংযোগ। এ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে অসুস্থা হয়েও ব্যাংকক থেকে লড়ছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য,সাবেক সাধারন সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠ-ঘাট চষে বেড়াচ্ছেন সাবেক ঢাকা বিভাগীয স্পেশাল জর্জ ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ বেজাউল করিম খান চুন্নু। নির্বাচনের আর এক সপ্তাহের বেশি সময় থাকলেও উভয় দলের কর্মী-সমর্থকদের অব্যাহত গনসংযোগে মনে হচ্ছে বড় দু’দল আওয়ামীলীগ-বিএনপির মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে । গত মঙ্গলবার বিকেলে ধানমন্ডির সুধাসদন থেকে কিশোরগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৈয়দ আশরাফের পক্ষে ভোট চান। এসময় তিনি ১/১১ সময়ে সৈয়দ আশরাফের অবদানের কথা উল্লেখ্য করে তাকে বিজয়ী করতে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে সকলকে আহবান জানান। এর পর থেকেই নেতাকর্মীরা উজ্বিবিত। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার (১৯ ডিসেম্বর) জামাইল নতুনবাজারসহ হোসেনপুর উপজেলায় প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের পক্ষে গনসংযোগ ও কর্মীসভায় অংশগ্রহন করেন বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক পরিচালক কৃষিবিদ মশিউর রহমান হুমায়ুনসহ শতশত নেতাকর্মী। অপর দিকে গত মঙ্গল ও বুধবার (১৮-১৯ ডিসেম্বর) হোসেনপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম-গঞ্জে ও বড় রাস্থাার মোড়ে পথসভা ও গনসংযোগে অংশগ্রহন করছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ঢাকা বিভাগীয স্পেশাল জর্জ মোঃ বেজাউল করিম খান চুন্নু, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শরিফুল ইসলামসহ শত শত কর্মী সমর্থক। যেন বড় দু’দলের কর্মী-সমর্থকদের পদচারনায় যেন মুখরিত হোসেনপুর-কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাঠ ঘাট ও অলিগলি।কিশোরগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী সমর্থক ও ভোটারদের সাথে কথা বলে জানাযায়, সৈয়দ আশরাফ অসুস্থা হয়ে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সৈয়দ আশরাফের পক্ষে ভোট চাওয়ার পর থেকে থেমে নেই আশরাফের পক্ষে মিছিল-মিটিং ও গনসংযোগ। তাদের দাবি অসুস্থা ও অনুপস্থিাত সৈয়দ আশরাফ গতবারের চেয়ে এবার আরো বেশি শক্তিশালী। তাই এবাও তিনি এ আসনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। অপর দিকে বিএনপির কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের দাবি, এ আসনে সৈয়দ আশরাফের অনুপস্থিাতিকে কাজে লাগিয়ে এবং ধানের শীষের জোয়ার ধরে রেখে প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীরা ্একাট্টা। তাই যদি সুষ্ট নির্বাচন হয় তবে ধানের শীর্ষের প্রার্থী বেজাউল করিম খান চুন্নুকে দিয়েই কিশোরগঞ্জ-১ আসনটি এবার পূণরোদ্ধার সম্ভব হবে। স্বাধীনতার পর এ আসনটি বেশির ভাগ সময় আওয়ামীলীগের দখলে ছিল। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে বিএনপি এ আসনটি জয় লাভ করলেও পারবর্তীতে আবারও আওয়ামীলীগের দখলে চলে যায়। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি চায় হারানো আসন ফিরে পেতে আর আওয়ামীলীগ চায় ধরে রাখতে। কিন্তু সৈয়দ আশরাফের অসুস্থাতায় তার সমর্থকরা কিছুটা হতাশা হলেও প্রধান মন্ত্রীর শেখ হাসিনার ভিডিও কনফারেন্সে সৈয়দ আশরাফের পক্ষে ভোট চাওয়ায় ও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিরা একাত্বতা প্রকাশ করে নির্বাচনী প্রচারনায় মাঠে থাকায় কর্মী-সমর্থকরা এখন উজ্জীবিত। অন্যদিকে ধানের শীষের প্রার্থী মোঃ রেজাউল করিম খান চুন্নু নিজে উপস্থিাত থেকে মিছিল মিটিং,গনসংযোগ ও ওঠোন বৈঠক করে ঐক্যফ্রন্টের শক্ত অবস্থাান জানান দিতে সচেষ্ট রয়েছেন। তাই এবারের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠ দখলে নিতে দু’দলেই এখন কৌশলি ভুমিকায়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারনা ভোটাররা যদি নিবিঘেœ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধীকার প্রয়োগ করতে পারে তবে এ আসনে বিএনপি-আওয়ামীলীগের মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে ।

