বিয়ে বন্ধের পরও আতঙ্কে নান্দাইলের ইয়াসমিন
মজিবুর রহমান ফয়সাল :
প্রশাসন সঠিক সময়ে আইনি কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহন না করায় ময়মনসিংহের নান্দাইলে অহরহ ঘটছে বাল্য বিয়ের মতো ঘটনা। এই উপজেলায় যে বাল্যবিয়েগুলো ভাঙ্গা হচ্ছে তা রাতের আধারে কোন না কোন উপায়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে। গত শুক্রবার ইয়াসমিন নামে এক অষ্টম শ্রেণি শিক্ষার্থী নিজের বিয়ের ধাক্কা সামলাতে পারলেও আতঙ্কে দিন কাটছে তার। ইয়াসমিনের ধারণা যে কোন সময় তাকে জোর করে বিয়ে দিতে পারে পরিবারের লোকজন।
জানা যায়, উপজেলার জহুরা খাতুন বালিকা বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেনিতে পড়–য়া শিক্ষার্থী ইয়াসমিন আক্তার। সে খামাটখালি গ্রামের আজিজুল খার কন্যা। শুক্রবার একই গ্রামের শহিদের ছেলের সাথে তার বিয়ের দিন ধার্য্য করা হয়। ইয়াসমিন বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার কাছে এই বিয়ে বন্ধ করার অনুরোধ করে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থানার উপরিদর্শক নুরুল হুদাকে ঘটনা স্থালে পাঠান। নূরুলহুদা জানান, বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে পূর্ন বয়স না হওয়া পর্যন্ত বিয়ের ব্যবস্থা করবে না এই মর্মে মুছলেখা নিয়ে আসেন। স্থানীয়রা জানায়, ওই রাতে ১২ টার দিকে আবার মেয়েকে নিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে প্রতিবেশীদের প্রতিহতের মুখে সম্ভব হয়নি।
শনিবার এই বিষয়ে ইয়াসমিনের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, আমি এখন বিয়ে করতে চাইনা। পড়া লেখা করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই। বিয়ে বন্ধ হলেও আতঙ্কের মধ্যে আছি। যে কোন সময় জোর করে আমাকে বিয়ে দিতে পারে। এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাদ্দেক মেহদী ইমাম জানান, বাল্যবিয়ে আমাদের সমাজের জন্য অভিশাপ। এই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন তিনি।

