শহীদ আরমানের স্মরণসভায় বিচার ও ‘শহীদ আরমান সড়ক’ নামকরণের আহ্বান

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:

১৯৯৪ সালের ৩০ জুন তৎকালীন তসলিমা নাসরিনের বক্তব্যের প্রতিবাদে ডাকা হরতাল চলাকালে কিশোরগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আরমানকে স্মরণ করে তার হত্যার বিচার এবং কাচারীবাজার থেকে একরামপুর মোড় পর্যন্ত সড়কটি ‘শহীদ আরমান সড়ক’ নামে নামকরণের দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের আলেম-উলামারা।

জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মুফতি কফিল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক স্মারক লেখায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

লেখায় উল্লেখ করা হয়, ঐতিহ্যবাহী আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আরমান কিশোরগঞ্জ শহরের শহীদি মসজিদ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তার পিতা মরহুম আনোয়ার হোসেন ও মাতা মরহুমা হামিদা আক্তার। ছোটবেলা থেকেই তিনি ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং আল্লামা শফিকুর রহমান জালালাবাদীর কাছে কোরআন শিক্ষা গ্রহণ করেন।

লেখায় দাবি করা হয়, ১৯৯৪ সালের ৩০ জুন হরতাল চলাকালে কিশোরগঞ্জের গৌরাঙ্গ বাজার এলাকায় পুলিশের গুলিতে আরমান আহত হন। পরে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। একই ঘটনায় মাওলানা আশরাফ আলী গাজী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হলেও চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হন।

এতে আরও বলা হয়, আরমানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কিশোরগঞ্জে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তার হত্যার বিচার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। সে সময় বিষয়টি জাতীয় সংসদেও উত্থাপন করা হলেও এখনো দৃশ্যমান বিচার হয়নি বলে লেখায় দাবি করা হয়েছে।

লেখক আরও উল্লেখ করেন, আরমানের পরিবার সরকারি আর্থিক সহায়তা ও চাকরির প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তার মায়ের কাছে পাওয়া একটি চিরকুটে আরমান লিখে গিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়, “মা, আমি যদি তাসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে শহীদ হয়ে যাই, তাহলে তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও।”

এদিকে গত ১৮ জুন ২০২৬ কিশোরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরিতে জাতীয় উলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে শহীদ আরমান ও অন্যান্য শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত বক্তারা কাচারীবাজার থেকে একরামপুর মোড় পর্যন্ত সড়কটির নাম ‘শহীদ আরমান সড়ক’ করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ