হোসেনপুরে ব্রহ্মপুত্র নদে অবৈধ বালু উত্তোলন, নেপথ্যে প্রভাবশালী চক্র
নিউজ ডেস্ক:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের সাহেবের চর এলাকার ব্রহ্মপুত্র নদের ‘চায়নাঘাট’ পয়েন্টে অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ড্রেজার বসিয়ে বালু তুলে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এর ফলে তীব্র নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে ফসলি জমি ও আশপাশের বসতভিটা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী বোরহান, মাসুদ ও কফিল। অভিযোগ রয়েছে, এই চক্রটির সাথে সরাসরি জড়িত রয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল। তাদের সম্মিলিত প্রভাবের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দিন-রাত সমানতালে বালু তোলার কারণে নদী তীরবর্তী এলাকার পরিবেশ ও ভৌগোলিক কাঠামো হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই এভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে বড় ধরনের ভাঙনের কবলে পড়তে পারে সাহেবের চর এলাকা। এ বিষয়ে পরিবেশ রক্ষা ও নদী ভাঙন রোধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বালু ব্যবসায়ী বোরহানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কথা স্বীকার করেন। তবে নিজের স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, “আমার কাছে জমির দলিল রয়েছে, সেই কাগজের বলেই আমি বালু তুলছি।” স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি রয়েছে কি না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোনো অনুমতি নেই, তবে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলনের কারণে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “যে সময় আমাদের বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল, তখন কোথায় ছিলেন? তখন তো দেখেননি। যদি এখন দেখা আপনার দায়িত্ব হয়, তবে আগেও দেখার দায়িত্ব ছিল।” অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে তিনি রেগে গিয়ে নদীকে নিজের ভিটা দাবি করে প্রতিবেদককে বলেন, “এটা নদী না, এটা আমার বাড়ির ভিটা। আপনি সিএস আরএস (রেকর্ড) দেখে কথা বলেন।” তবে নদী থেকে বালু উত্তোলনে মাসুদ, কফিল ও আওয়ামী লীগ নেতা সোহেলসহ অন্যদের জড়িত থাকার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।
ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের ব্যাপারে হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “উপজেলা প্রশাসন বা জেলা প্রশাসন থেকে এ কাজের কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ। খবর পেয়ে আমি ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশসহ উপজেলা ভূমি কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া ও চরের দুর্গম রাস্তার কারণে তারা ঘটনাস্থল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেননি। আবহাওয়া অনুকূলে আসলে আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

