সুনামগঞ্জ ২ আসন আওয়ামীলীগের প্রার্থীদের মধ্যে চলছে প্রচারণার লড়াই : অপেক্ষায় বিএনপি

মোজাম্মেল আলম ভূঁইয়া 

আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের হাওর এলাকা হিসেবে সু-পরিচিত সুনামগঞ্জ ২ আসনে প্রচরণার যুদ্ধ শুরু করেছে আওয়ামীলীগের একাধিক প্রার্থীরা। অন্যদিকে বিএনপি সমর্তিত প্রার্থীরা রয়েছে তাদের দলে হাইকমান্ডের নির্শেদের অপেক্ষায়। জেলার দিরাই ও অবহেলিত শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসন। মৎস্য ও ধান এখানকার প্রধান সম্পদ হলেও রাজনীতির মাঠ সব সময় গরম করে রেখেছিলেন বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়ান ও জাতীয় রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি। তিনি এআসনে ৬বার নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৭ সালের দিকে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। এরপরে এআসনে উপনির্বাচনের মাধ্যমে তারই সহধমির্নী ড. জয়া সেনগুপ্তা নৌকার মনোনয়ন নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। এই আসনটি মূলত আওয়ামীলীগের ঘাটি হিসেবে পরিচিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে- সুনামগঞ্জ ২ আসনের (দিরাই-শাল্লা) বর্তমান সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তার বার্ধক্যকে সামনে এনে প্রয়াত পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক শিষ্যরা দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় মাঠে নেমে প্রচারণার যুদ্ধ শুরু করেছেন। আওয়ামীলীগের সম্ভব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমে শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন চৌধুরী ও জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ব্যারিস্টার অনুকুল তালুকদার ডাল্টন বর্তমানে সভা-সমাবেশ ও দলের উন্নয়নের প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এছাড়াও এই দলের পক্ষে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন, জেলা কমিটির উপদেষ্টা ও শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট অবনী মোহন দাস, সিলেট মহানগর আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট শামসুল ইসলাম, যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগের সভাপতি ড. শামসুল হক চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদের সাবেক সহ-সম্পাদক সুবীর নন্দী দাস, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তানভীর তুলি ও সাবেক সচিব মিজানুর রহমানসহ আরো একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী।

অন্যদিকে বিশিস্ট পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক মাঠের প্রতিপক্ষের ভোট যোদ্ধা সাবেক এমপি ও বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য থাকায়, এই দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল ও জেলা বিএনপির সদস্য ব্যারিষ্টার মাহদীন চৌধুরীসহ আরো একাধিক নেতাকর্মীর নাম শুনা যাচ্ছে। কিন্তু বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা এনিয়ে এখনও পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ার কারণে এই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণা করতে দেখা যায়না। তারা কেন্দ্রের নির্দেশ পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। তবে আওয়ামীলীগের মনোয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছেন। এছাড়াও বাসদ নেতা হামিদুল কিবরিয়া চৌধুরী, জাতীয়পার্টির নেতা দুলদুল চৌধুরী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহাকারী মহাসচিব মাওলানা শুয়াইব আহমদ নির্বাচনের প্রার্থী হতে আগ্রহী বলে খবর পাওয়া গেছে।

এব্যাপারে সাবেক এমপি নাছির উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন- আমি শারীরিক ভাবে একটু অসুস্থ্য। তবে আমার দলের নের্তাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগযোগ করে দলের কাজ করে যাচ্ছি। বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে এবং আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।

শাল্লা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল আমিন চৌধুরী বলেন- আমি বিশিস্ট পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের রাজনৈতিক শিষ্য। তিনি প্রয়াত হওয়ার পর তার সহধমির্নী ড. জয়া সেনগুপ্তাকে নিয়ে ২বার নির্বাচন করেছি। তার সাথে আমার কোন বিরোধ নাই। তিনি বার্ধক্য জনিত কারণে শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য। সেজন্য আমাদের কাংখিত উন্নয়ন হয়নি। তাই এলাকার উন্নয়ন ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের দাবিতে আমি প্রার্থিতা ঘোষনা দিয়ে মাঠে গণসংযোগ করছি।

এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ড. জয়া সেনগুপ্তা সাংবাদিকদের জানান- তিনি অসুস্থ্য হওয়ার কারণে কিছুদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বর্তমানে তিনি সুস্থ্য, এজন্য তার নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত সভা-সমাবেশ ও সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের জোর প্রচারণা করে যাচ্ছেন। তৃনমূলের নেতাকর্মীদের দাবি ও জরিপ অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন তিনি পাবেন বলে আশাবাদী।

 

 

 

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ