৪১ বছর বয়সে মা হচ্ছেন মাহিরা খান, কেন উঠছে এত প্রশ্ন?

নিউজ ডেস্ক:

৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয়বার মা হওয়ার সুখবর দিয়েছেন পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান। খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অভিনন্দনের পাশাপাশি অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, এই বয়সে কেন সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন অভিনেত্রী।

মাহিরার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাংশের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে- একজন নারীর মা হওয়ার বয়স কেন এত বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়?

মাহিরার ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে কারণ তার প্রথম সন্তান এখন কিশোর। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, তার এই বয়সে সন্তান নেওয়া ঠিক কি না। কেউ কেউ এমন কথাও বলেছেন, সন্তানের জন্য আরও কম বয়সী বাবা-মা প্রয়োজন।

শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, কিছু সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। মাহিরার বয়সকে কেন্দ্র করে তাকে ‘বয়স্ক নারী’ হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি নিয়েও আপত্তি উঠেছে।

অভিনেত্রী সিয়েনা মিলারও ৪৩ বছর বয়সে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, সন্তান নেওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের বয়স নিয়ে এত আলোচনা হলেও বয়স্ক পুরুষদের ক্ষেত্রে কেন একই ধরনের প্রশ্ন ওঠে না।

বিখ্যাত অভিনেতা আল পাচিনো ৮৩ বছর বয়সে বাবা হয়েছেন, রবার্ট ডি নিরোও ৭৯ বছর বয়সে সন্তানের বাবা হয়েছেন। তাদের ক্ষেত্রে সন্তান নেওয়ার বয়স নিয়ে যে ধরনের সামাজিক সমালোচনা দেখা যায়নি, নারীদের ক্ষেত্রে সেটিই অনেক বেশি দৃশ্যমান- এমন যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে।

তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকেও বয়সের বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। চিকিৎসকদের মতে, বয়স বাড়ার সঙ্গে নারীদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে এবং কিছু জটিলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ৪০-এর পর নিজের ডিম্বাণু দিয়ে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে উর্বরতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি গর্ভপাত ও ক্রোমোজোমজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

তবে চিকিৎসাবিষয়ক এসব ঝুঁকি থাকলেও ৪০-এর পর গর্ভধারণ অসম্ভব নয়। বরং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশি বয়সে মাতৃত্বের প্রবণতা বেড়েছে। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, ১৯৯০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী নারীদের সন্তান জন্ম দেওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মাহিরাকে ঘিরে বিতর্কের একটি বড় কারণ পাকিস্তানের সামাজিক বাস্তবতাও। দেশটিতে তুলনামূলক কম বয়সে বিয়ে ও সন্তান নেওয়ার প্রবণতা থাকায় ৪০-এর কোঠায় কোনো নারীর নতুন করে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে।

মাহিরা ২৫ বছর বয়সে প্রথম সন্তানের মা হন। পরবর্তীতে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং তিনি দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন। এবার দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে তার সন্তান আসার খবর প্রকাশ্যে আসায় তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে মাহিরার ৪১ বছর বয়সে মা হওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মূল প্রশ্নটি থেকেই যায় একজন নারী কখন মা হবেন, সেই সিদ্ধান্তে সমাজের ভূমিকা কতটা থাকা উচিত?

মাহিরার বয়স নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক তাই শুধু একজন তারকার ব্যক্তিগত খবর নয়; বরং নারীর বয়স, মাতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

 

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ