ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা জোরদারে কটিয়াদীতে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সংলাপ
সৈয়দ রানা, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ):
ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা এবং সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) উপজেলা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর সহায়তায় কটিয়াদী পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) এ সংলাপের আয়োজন করে। ‘বাংলাদেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা এবং সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সংলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিএফজির পিস অ্যাম্বাসেডর ও কটিয়াদী পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন। সঞ্চালনা করেন পিএফজির সমন্বয়কারী ও পাড়া মণ্ডলভোগ কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক।
সংলাপে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু হানিফ, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মেহেদী, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম, কটিয়াদী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও পিস অ্যাম্বাসেডর সৈয়দ মুরছালিন দারাশিকো, জামায়াতে ইসলামী কটিয়াদী পৌর শাখার আমির আনিসুজ্জামান রুবেল, কটিয়াদী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা জহিরুল হক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ওমর ফারুক, মাদ্রাসা দাওয়াতুল হকের খতিব মুফতি নূর মোহাম্মদ সাঈফী, জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নূরুজ্জামান মামুন, উপজেলা মডেল মসজিদের খতিব মো. কামাল উদ্দিন জাফরী, চরিয়াকোনা সৈয়দবাড়ী জামে মসজিদের খতিব মোজাম্মেল হোসাইন, পুরোহিত শ্রী সজল চন্দ্র বর্মণ ও সিরাতন বাসফোর প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কটিয়াদী সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম মাহফুজ। স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর মাঠ সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বহুধর্ম, বহুমত ও বহুসংস্কৃতির একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। যুগ যুগ ধরে এ দেশের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। এই ঐতিহ্য আরও শক্তিশালী করতে সমাজের সর্বস্তরে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সংলাপের সংস্কৃতি, সহনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করতে হবে। ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই বিভেদ, বিদ্বেষ বা সংঘাতের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তারা।
সংলাপে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, পেশাজীবী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, নারী ও যুব প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
