কটিয়াদীতে রাজনৈতিক সহনশীলতা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে মতবিনিময় সভা
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করতে রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্ব তুলে ধরে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার লোহাজুরী ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় কটিয়াদী পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) আয়োজিত “শান্তি ও সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্থিতিশীলতার গুরুত্ব” শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পিস অ্যাম্বাসেডর ও কটিয়াদী উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ মুরছালিন দারাশিকো। সঞ্চালনা করেন পিস অ্যাম্বাসেডর এবং পাড়া মন্ডলভোগ কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের মাঠ সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন লোহাজুরী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোবারক হোসেন সরকার, সহ-সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন মেম্বার, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম (খোকন), সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আতাউর রহমান আব্দুল্লাহ, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বিপ্লব উদ্দিন বকুল, লোহাজুরী ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম স্বপন, কটিয়াদী পিএফজি সদস্য কামরুজ্জামান ভূইয়া এবং সাংবাদিক মিয়া মোহাম্মদ ছিদ্দিক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওসি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, “রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সহনশীলতা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। মতপার্থক্য থাকলেও সহিংসতা ও বিভাজনের পথ পরিহার করে সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “গুজব, উসকানি ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও সহনশীলতার চর্চা বাড়াতে হবে। ধর্মকে বিভেদের নয়, বরং শান্তি, মানবতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।”
সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষক, পেশাজীবী, যুব প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনায় বক্তারা রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতিময় সমাজ গঠন সম্ভব।

