কিশোরগঞ্জের সাবেক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেড় কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

মো. মনির হোসেন: কিশোরগঞ্জের সাবেক উপ-পরিচালক ও বর্তমান ভোলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রোকন উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সরকারি চাকুরীজীবী মো. মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারী দাবি করেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. রোকন উদ্দিন ভূঁইয়া কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলায় কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন খাতে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, কিশোরগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে (২০১৫-২০২১) তিনি সরকারি ডরমেটরিতে দীর্ঘদিন বসবাস করেও ভাড়া ও বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল পরিশোধ না করে প্রায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া গাড়ি ব্যবহার না করেও জ্বালানি ও মেরামত খাতে প্রায় ২২ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সরঞ্জাম ক্রয়, সেলাই মেশিন, কম্পিউটার ও আসবাবপত্র খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সের সম্মানী ও ভাতা বাবদ ভুয়া বিল দেখিয়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়। একইসঙ্গে প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি পোশাক বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

ময়মনসিংহে কর্মরত অবস্থায় (২০২১-২০২৩) আর্থিক অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়মনসিংহে কর্মরত অবস্থায় কলেজের মেয়েদের ট্রেনিংয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতেন। যার প্রমান হিসেবে তিনি তার অফিসের সিসি টিভি ক্যমেরাটি নষ্ট করে রাখেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, শেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে হলরুম ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, বর্তমানে ভোলায় কর্মরত থাকলেও তিনি নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না এবং বিভিন্ন ভাতা ও বিলের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলন করে আসছেন।

এদিকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জারি করা একাধিক প্রজ্ঞাপনে দেখা যায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. রোকন উদ্দিন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিত করা হয় এবং ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট জারি করা আরেক প্রজ্ঞাপনে বিভিন্ন খাতে আত্মসাৎকৃত ৪ লাখ ৬০ হাজার ৯৬০ টাকা তার বেতন থেকে কিস্তিতে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং এক বছরের জন্য তিরস্কার দণ্ড প্রদান করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কম্পিউটার ও সরঞ্জাম ক্রয় না করেও বিল উত্তোলন, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগকারী মো. মিজানুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ময়মনসিংহে কর্মরত থাকাকালে তার এক আত্মীয় সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে গেলে বিভিন্ন প্রলোভনের শিকার হন যা লিখিত অভিযোগেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একজন সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে জানতে পারেন এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণেই অভিযুক্ত মো. রোকন উদ্দিন ভূঁইয়াকে ময়মনসিংহ থেকে ভোলায় বদলি করা হয় এবং এরই মধ্যে তিনি দুটি বিভাগীয় শাস্তিও পেয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, ভোলায় দায়িত্ব পালনকালেও তিনি একই ধরনের অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম করে আসছেন। তিনি বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবী জানান।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. রোকন উদ্দিন ভূঁইয়ার সঙ্গে ০১৭৯০৮৩২৪৬১ নম্বরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি নম্বরটি ভুল বলে কলটি কেটে দেন।

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ