এক জোড়া ছোট্ট হাত এবং আমার নতুন জন্ম: প্রথমবার বাবা হওয়া
মানুষের জীবনে অনেক বাঁক থাকে, অনেক অর্জন থাকে। কিন্তু কিছু মুহূর্ত এমন থাকে যা জীবনকে পুরোপুরি দুই ভাগে ভাগ করে দেয় সেই মুহূর্তের আগের জীবন আর পরের জীবন। আমার জন্য সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি ছিল আজকের এই দিনটি। ঠিক ৯বছর আগে আজকের এই দিনে আমি শুধু একজন মানুষ থেকে ‘বাবা’ হিসেবে পুনর্জন্ম পেয়েছিলাম।
ফিরোজা নার্সিং হোমের সেই করিডোরে অস্থির পায়চারি, মনের ভেতর অজানা এক আশঙ্কা আর অপার কৌতুহলের মিশ্রণ সব মিলিয়ে এক (পাতা ৩ কলাম ১)অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছিল সেদিন। যখন নার্স এসে প্রথমবার আমার কোলে সেই ছোট্ট রক্তমাংসের পুতুলটিকে তুলে দিলেন, মুহূর্তের জন্য মনে হলো সময় থমকে দাঁড়িয়েছে। সেই প্রথম স্পর্শ, সেই আধবোজা চোখে পৃথিবীর আলো দেখার চেষ্টা সব মিলিয়ে আমার হৃদস্পন্দন যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
সমাজ ও সংসারের হাজারো ব্যস্ততায় আমরা প্রায়ই যান্ত্রিক হয়ে পড়ি। কিন্তু সন্তানের সেই প্রথম কান্নার আওয়াজ আমার ভেতরের সব যান্ত্রিকতাকে ধুয়ে মুছে দিয়েছিল। আমি বুঝতে পেরেছিলাম, এখন থেকে আমার প্রতিটি কাজের, প্রতিটি স্বপ্নের আর প্রতিটি লড়াইয়ের নতুন এক উদ্দেশ্য তৈরি হলো। সেই ছোট্ট দুটো হাতের আঙুল যখন শক্ত করে আমার তর্জনী আঁকড়ে ধরল, আমি অনুভব করলাম পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ‘বাবা’।
বাবা হওয়া মানে কেবল একটি পদবি বা পরিচয় পাওয়া নয়; এটি এক বিশাল নিঃস্বার্থ ত্যাগের সূচনা। সেদিন থেকে আমি শিখলাম নিজের চেয়েও বেশি কাউকে ভালোবাসা যায়, নিজের ঘুমের চেয়েও অন্যের আরামকে প্রাধান্য দেওয়া যায়। সাংবাদিকতার পেশাদার জীবনে প্রতিদিন কতশত খবর আর ঘটনার সাক্ষী হই, কিন্তু নিজের সন্তানের মুখ দেখার চেয়ে বড় কোনো খবর বা আনন্দ আর কিছুতেই নেই।
আজ এই বিশেষ দিনে পেছন ফিরে তাকালে মনে হয়, কত দ্রুত সময় বয়ে যায়! সেই ছোট্ট শিশুটি আজ ৯ বছরে, তার প্রতিটি পদক্ষেপে আমি খুঁজে পাই আমার শৈশবকে। একজন বাবা হিসেবে আমার চাওয়া খুব সামান্য। আমি চাই না সে কেবল সফল হোক, বরং সে যেন একজন সংবেদনশীল এবং ভালো মানুষ হয়ে বড় হয়।
প্রথমবার বাবা হওয়ার সেই শিহরণ আজও আমার মনে টাটকা। এই দিনটি আমাকে প্রতিবছর মনে করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর সব ঐশ্বর্যের চেয়েও দামি হলো সন্তানের ওই এক চিলতে হাসি। আমার প্রথম সন্তান, তুমি আসার পর থেকে আমাদের ঘর শুধু আলোয় ভরেনি, তুমি আমার অস্তিত্বের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছ।
তোমার আগমনে ধন্য হওয়া এই দিনটি চিরকাল আমার ক্যালেন্ডারে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।
১৪ই এপ্রিল আমার রাজকন্যার জন্মদিন। শুভ জন্মদিন রাজকন্যা আনিশাহ রায়হান সোয়াদ। সুন্দর এক আগামীর প্রত্যাশা রইল তোমার প্রতি। মানবিক মানুষ হবে। দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াবে। মানবতার ফেরিওয়ালা হয়ে দেশবিদেশে ভ্রমণ করবে বাবা হিসেবে এ প্রত্যাশাই রইল তোমার প্রতি। জন্মদিনে শুভেচ্ছা রইল। শুভ জন্মদিন, মা।

