প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাত দূনীর্তিসহ নানা অভিযোগ

এম এ হালিম, ভৈরব :

ভৈরবে হাজি জহির উদ্দীন স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ অহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দূনীর্তি, অর্থ আত্নসাতসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাপেদ ওই শিক্ষক কে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করেছে উপজেলা প্রশাসন। এদিকে শিক্ষকরা অনিদিষ্ট কালের জন্য কর্ম বিরতি পালন করছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠ দান ব্যাহত হচ্ছে । দ্রূত তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী জানান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। দাবী মানা না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

কমলপুর হাজী জহির উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক অহিদুর রহমান ২০১৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গত ৯ বছরে দায়িত্ব পালন কালে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির সাথে যোগসাজশ করে করোনাকালে ক্যান্টিন বন্ধ থাকলে ও ক্যান্টিন নির্মাণ, রক্ষণা- বেক্ষণ, বিভিন্ন সামগ্রী ক্রয়,সিড়ি নিমার্ণ,একাদশ শ্রেণীর পাঠ দানের অনুমতি, গাইড বই পাঠ্য করা, অনুপস্থিত শিক্ষকের মাসের বেতন উত্তোলন করে আত্মসাত,শিক্ষক কর্মচারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ ১৭ টি অভিযোগ এনে তাকে চাকরি থেকে অপসারন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বিদ্যালয়ের অভিভাবকেরা উপজেলা প্রশাসন বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এছাড়া শিক্ষার্থীরা তার অপসারন দাবী করে গত ২ সপ্তাহ যাবত আন্দোলন কর্মসূচী চালিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সীমাহীন দূর্নীতির অভিযোগ এনে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে সংবাদ সম্মেলন করে তাকে অপসারন করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগ দিয়ে স্কুল এন্ড কলেজের পাঠদান ফিরিয়ে এনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টির দাবী জানান।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক আজিজুল হক ও সহকারি প্রধান শিক্ষক সহ শিক্ষার্থীরা জানান, প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন কালে শিক্ষক কর্মচারীদেরকেতিনি জিম্মি করে রাখতেন, তিনি সভাপতির সাথে যোগসাজশ করে শিক্ষকদের কল্যাণ ফান্ডের টাকা,প্রবাসী শিক্ষকের বেতনের টাকা আত্মসত সহ নানা অনিয়ম দূর্নীতিকরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । তার বিরুদ্ধে ১৭ টি অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে ।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী জিসান লিখিত অভিযোগ দাখিলের সত্যতা স্বীকার করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তাকে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ মোঃ অহিদুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা,ষড়যন্ত্র ও বানোয়াট বলে দাবী করেন। তাছাড়া অভিযুগের তদন্ত হচ্ছে এবং তিনি জবাব দিয়েছেন বলে ও জানান ।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা প্রাণী সম্পদ ও ভ্যাটেরিনারী সার্জন ডাঃ মনিরুজ্জামান তরফদার জানান, প্রধান শিক্ষক অহিদুর রহমানের অনিয়ম দূর্নীতির বিষয়ে বিদ্যালয়ের অভিভাবকদের কাছ থেকে ইউএনও স্যারের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে। স্যারের আমাকে আহবায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করে দিয়েছে। আমরা তদন্ত করছি। তদন্ত শেষ হলে স্যারের কাছে রিপোর্ট পেশ করবো। পরে স্যার ব্যবস্থা নিবেন।

এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মোঃ রেদওয়ান আহমেদ রাফি জানান,অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি তদন্ত করছে এবং প্রধান শিক্ষক কে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে । তাছাড়া সহকারি প্রধান শিক্ষক শেফায়েত হোসেন কে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

 

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries