হাওরে দূর দিগন্তে অথৈ জলরাশির সৌন্দর্য
ছাইদুর রহমান নাঈম :
নানান বৈচিত্র্যময় হাওরে জলরাশির সৌন্দর্য উপভোগ করতে কিশোরগঞ্জের হাওরে ছুটে আসেন মানুষ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিনিয়ত পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। কখনো রৌদ্রময় আবার আকাশে মেঘের লুকোচুরি। অথৈজল চারদিকে ছড়িয়ে আছে। নিঝুম বৃষ্টিতে ভিজে হাওরের জলরাশি দেখার মধ্যে মনের গহীনে আনে তৃপ্তিদায়ক। বর্ষা মৌসুমে কিশোরগঞ্জের হাওর বৈচিত্র্যপিয়াসী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য এক চমৎকার ও দৃষ্টিনন্দন স্পটে পরিণত হয়েছে। কিশোরগঞ্জে প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে হাওরের নবনির্মিত স্পটগুলো মুখরিত হয়ে উঠছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে। রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে হাওরে আগের মতোই জমজমাট হয়ে ওঠেছে।
চারদিকে পানি, তার মধ্যে পাকা সড়ক৷ মিঠামইন-ইটনা-অষ্টগ্রাম উপজেলার সংযোগকারী অবিশ্বাস্য অল-ওয়েদার সড়কটি তিন উপজেলাসহ গোটা হাওরের দৃশ্যপটে এসেছে আমূল ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ভর বর্ষা মৌসুমে উত্তাল হাওরের বুকচিরে প্রবহমান এই অল-ওয়েদার সড়কটি এক অদ্ভুত ও মায়াবি দৃশ্যের অবতারণা করে। পর্যটকরা এই অসাধারণ দৃশ্যের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য দেশের দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নিকলীর বেড়িবাঁধ ও মিঠামইনের অল-ওয়েদার সড়কে।
ইটনা থেকে মিঠামইন হয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা পর্যন্ত হাওরের বুক চিরে নির্মিত ৩৫ কিলোমিটার অল-ওয়েদার সড়ক হয়ে উঠেছে পর্যটকদের দুর্নিবার আকর্ষণ। প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের পদচারণায় এখন মুখরিত হাওরের এক সময়ের অবহেলিত আর প্রত্যন্ত এই জনপদ।
সিলেট থেকে আসা পর্যটক মোনায়েম আহমেদ বলেন,’আমি পরিবার নিয়ে আসছি এখানে৷ হাওর হচ্ছে বৈচিত্র্যময় যায়গা। একসাথে অনেক কিছু দেখতে পেলাম।’
ঢাকার সাভার থেকে আসা মফিজুল ইসলাম বলেন,’বন্ধুরা মিলে আসছি হাওরে ঘুরতে। এখানে আসলে সরকারিভাবে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা উচিত। সরকার নজর দিলে এটি পর্যটনের বড় কেন্দ্র হয়ে ওঠতে পারে। শুধু হাওরে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের আলাদা একটি বিশেষ ইউনিট স্থাপন করার দাবি জানাচ্ছি।’
পর্যটকদের ব্যাপক আগমনের ফলে এই অঞ্চলের দরিদ্র বেকার তরুণ-যুবকদের কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। অনেক তরুণ মোটরবাইক, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন চালিয়ে যাত্রী পরিবহনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন। এক শ্রেণির পেশাদার মাঝি নৌকা, ট্রলার ও স্পিডবোটের মাধ্যমে পর্যটকদের হাওরে পরিভ্রমণ করিয়ে অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। এ ছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়ে যাওয়ায় পণ্য পরিবহনের ব্যয় আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সহজলভ্যতা সৃষ্টি হয়েছে এবং মূল্যও ক্রয়সীমার মধ্যে চলে এসেছে।
হাওরের বালিখলা, চামড়াঘাট, মিঠামইন সদর, নিকলী বেড়িবাঁধ ও ইটনা-অষ্টগ্রাম সদরে দুই শতাধিক অস্থায়ী হোটেল, রেস্তোরাঁ, খাবারের দোকান স্থাপিত হওয়ায় কয়েকশ’ পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় হাওরের এসব অবকাঠামো দেশের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।
পর্যটকদের আগমন বেশি হওয়ায় প্রশাসনিকভাবে সড়ক রক্ষার স্বার্থে পর্যটকদের মোটরবাইক ও সড়কের পাশে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নোঙর নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় চলাচল করার অনুমতি রয়েছে। তিন থানার পুলিশের নিরাপত্তায় রয়েছে অল-ওয়েদার সড়ক পর্যটন কেন্দ্র। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।

