হাওরে স্বাস্থ্য সেবার চিত্র পাল্টে গেছে মিঠামইন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে

হাওরে স্বাস্থ্য সেবার চিত্র পাল্টে গেছে

মিঠামইন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রসূতি মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার মান বৃদ্ধি পেয়েছে

 

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের সু-বিস্তৃত হাওর ও জলাভুমির মাঝেই খুঁেজ পাওয়া যায় এদেশের নৈসর্গিক শোভা ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র। হাওরাঞ্চাল জীব বৈচিত্র, মৎস্য সম্পদ, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। হাওরে ছোট বড় অনেক নদী – নালা ও খাল-বিল রয়েছে। চারদিকে পানি থৈই- থৈই করে। হাওর বেষ্টিত এ বিশাল জলরাশির মানুষ এক সময় স্বাস্থ্য সুবিধার ক্ষেত্রে ঔষধী লতাপাতা, কবিরাজি ও গ্রাম্য চিকিৎসকের উপর নির্ভরশীল ছিল। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের অন্যতম সূচক হলো স্বাস্থ্যগত উন্নয়ন। কারন স্বাস্থ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই বর্তমান সরকার এ বৃহৎ হাওরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ব্যতিরেখে সামাজিক উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে চিকিৎসা সেবায় সু-দৃঢ় পরিকল্পনা গ্রহন করেন। হাওর বেষ্টিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলোকে দক্ষ জনবল দিয়ে আধুনিক চিকিৎসা সেবার প্রান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়। পাল্টে গেছে হাওরে স্বাস্থ্য সেবার চিত্র।

মিঠামইন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঃ আধুনিক চিকিৎসা সেবার এক নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাওরবাসীর স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ঘোড়াউত্রা নদীর কোল ঘেষে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনেই নান্দনিক ভেষজ ও উদ্ভিদ বাগান। বাগান দেখে প্রথমে যে কেহ থমকে যাবে এ যেন কোন পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্র। তবে একটু সামনে আগালেই এমনটা আর মনে হবেনা। দেখা যাবে জরুরী বিভাগের সাইনবোর্ড আর সারি সারি রোগীর ভিড়। নজর কাড়ে হাওরবাসীর আধুনিক চিকিৎসা সেবায় মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ আল শাফী গত চার বছর ধরে অত্যান্ত আন্তরিকতার সাথে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আধুনিক স্বাস্থ্য সেবার দ্বার উন্মোচন করেন। পাল্টে গেছে মান্ধাতার আমলের চিকিৎসা সেবার চিত্র। মানসম্মত সেবা ও হাওরবাসীর নির্ভরযোগ্য স্বাস্থ্য সেবা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে হাওড় দিগন্ত জুড়ে সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে।

হাওড় চিকিৎসক হিসেবে খ্যাত ওই ডাক্তারের প্রচেষ্টায় দীর্ঘ ৩৮ বছর পর হাওরবাসীর কাংখিত সেবা বিনা মূল্যে প্রসূতির অস্ত্রোপচার সিজার চালু হয়েছে। হাওর এলাকার অজপাড়া গ্রামের ঘরে ঘরে লোকজন প্রসূতি মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার সুফল লাভ করছে। অ্যানেসথেসিয়া ও শল্যচিকিৎসক নিয়মিত না থাকলেও গত ১ বছরে ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অর্ধ শতাধিক প্রসূতির সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে বিনা মূল্যে। উন্নত চিকিৎসা সেবায় স্বাভাবিক প্রসব করানো হয়েছে আরও কয়েক গুন বেশী।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাথে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স  এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে হাওরবাসীর আস্থা বেড়েছে। স্বল্প মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় প্রতিদিন ভিড় করছে শত শত রোগী। শিশু ও  কিশোর- কিশোরীর মানসিক সেবাকেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার ও প্রসূতি অস্ত্রোপচার হাওরবাসীর মধ্যে বিশাল সাড়া জাগিয়েছে। প্রতিনিয়ত নামমাত্র মূল্যে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষাসহ ২০ ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ৩০ টি আইটেমের ওষুধ বিনা মূল্যে বিতরন করা হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুল্লাহ আল শাফী জানান, হাসপাতালে আধুনিক স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে কাজ করছি। হাওরবাসীর যে কোন জটিল ও কঠিন রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদানে আপ্রান চেষ্টা করছি। সহজে কোন মানুষ যেন দূরে অন্য কোথাও গিয়ে হয়রানি পোহাতে না হয়। এখানেই যেন উন্নত সেবা নিতে পারে।

 

 

 

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ