হুমায়ূন আহমেদের ৭৬তম জন্মদিন আজ

সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক 

বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৭৬তম জন্মদিন আজ। তাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক বলে গণ্য করা হয়। তিনি মধ্যবিত্ত জীবনের কথকতা সহজ-সরল গদ্য তুলে ধরে যুগের পর যুগ পাঠককে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন।

১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরক’ দিয়েই হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যে পালাবদলের তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর একের পর এক উপন্যাসে পাঠকের কাছে নন্দিত হয়ে উঠেছেন অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা নিয়ে। হুমায়ূন আহমেদের জন্ম নেত্রকোনার কুতুবপুরে, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে শহিদ হন। মায়ের নাম আয়েশা ফয়েজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মেধাবী ছাত্র হুমায়ূন আহমেদ পাঠ শেষে ওই বিভাগেই প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এক পর্যায়ে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে লেখালেখি, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণে যুক্ত হন। হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত ২০১২ সালের ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে মারা যান।

৭৬তম জন্মদিনকে সামনে রেখে হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন সময়ের আলোকে বলেন, হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চর্চা হচ্ছে, পিএইচডি হচ্ছে। আমার প্রত্যাশা, সেই চর্চা বাড়ুক, সবাই হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে জানুক। হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশক আলমগীর রহমান বলেন, মৃত্যুর প্রায় ১১ বছর পরও হুমায়ুন আহমেদ এখনও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক, এ বছরের বইমেলাতেও তার বইগুলোই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে।

বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক বলে সমালোচকরা মনে করেন। টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি সমাদৃত। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক। তার বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত। মিসির আলি এবং হিমু তার সৃষ্ট অন্যতম দুটি জনপ্রিয় চরিত্র। অনেক নতুন পাঠকের জন্য তিনি বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করেছিলেন। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের সাহিত্য জগতে বড় একটি শূন্যতা তৈরি হয়েছে।

 

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ