বজ্রপাতে মা–বাবা হারানো শিশু জিহাদের ঠাঁই হলো দাদির কোলে
বজ্রপাতে মা-বাবাকে হারিয়েছে পাঁচ বছরের শিশু জিহাদ আলী। মা-বাবার সঙ্গে থাকা জিহাদের বাঁ হাতের কাঁধের কাছে কিছু অংশ পুড়ে গেছে। দাদির কোলে ঠাঁই হয়েছে শিশুটির।
আজ মঙ্গলবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার জৈটকাপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বজ্রপাতে মারা যাওয়া শিশুটির বাবা টিপু সুলতান ও মা বেলিয়ারা বেগমের কবরটি কংক্রিটের ঢালাইয়ের পর চারদিকে ইট দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। বর মো. মামুন ও কনে সুমি আক্তারকে ৪ আগস্ট আনতে গিয়ে শিবগঞ্জে বজ্রপাতে ১৬ বরযাত্রীসহ ১৭ জনের মৃত্যু হয়। বেলিয়ারা বেগম বর মামুনের ফুফু।বাড়ির আঙিনায় বসে ছিলেন টিপু সুলতানের মা সানুয়ারা বেগম (৫৬)। মুখে কথা নেই তাঁর। স্বজনেরা বললেন, ঠিকমতো খাওয়া নেই তাঁর সপ্তাহখানেক ধরে। শুধু কাঁদছেন। দাদির কোলে এসে বসা জিহাদও কাঁদতে থাকে।
টিপু সুলতানের মেয়ে সমিরন খাতুন (১৫) বলে, ফেসবুকে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা দেখতে পেয়ে তার চাচা মো. রাহুল বাবার মুঠোফোনে কল দেন। সেটি রিসিভ করে জিহাদ। জিহাদ কাকাকে বলে, ‘বিজলি পইড়্যা মা-বাবা মইর্যা গেছে। আরও অনেকজনা মর্যাছে। একটা আগুনের বল আইস্যা মার মাথার উপর পড়্যাছে। তুমি তাড়াতাড়ি আইসো।’
টিপু সুলতানের বাবা মো. মসফুল (৬৪) কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘ছ্যালা মানুষ করনু। নিজে লিয়্যা বাহিরে ব্যবসাও করছিনু। লকডাউনের লাইগ্যা কাজ বন্ধ হয়্যা গ্যাল। বাড়িতেও ছিনু ছ্যালাকে লিয়্যা। কিন্তু হামাকে রাইখ্যা কেনে দুজনাই চইল্যা গেলি বাজান। হামি কাকে লিয়্যা থাকবো?’ কিছু সময় পর তিনি বলেন, টিপু সুলতানের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। বড় ছেলে মো. জীবন (২০) রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। পরেরটা মেয়ে সমিরন খাতুনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট জিহাদকে নিয়েই তাঁদের যত চিন্তা, কীভাবে তাকে বড় করবেন তাঁরা।
Source: Prothomalo

