নান্দাইলে শীত ও শ্রমিক সংকটের মধ্যেও বোরো আবাদ চলছে
মজিবুর রহমান ফয়সাল :
উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ২২ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ শুরু হয়েছে। তীব্র শীতকে উপেক্ষা করেও কৃষক জমিতে চারা রোপন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে চাষে কিছুটা সমস্যায় পড়ছে কৃষক। এই উপজেলায় বোরো ধানের চারা রোপন জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে। চলবে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত। আবার সেই ধান কাটা হবে এপ্রিলের শেষের দিকে। তিব্র শৈত্যপ্রবাহের কারণে বীজতলার রোপণকৃত বীজ নষ্ট হয়ে চারা সঙ্কট রয়েছে। তাই চড়া দামে ধানের চারা ক্রয় করছে কৃষক। পালাহার গ্রামের কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের সাথে এক সময় কৃষি জমিতে শ্রমিকের কাজ করতো এমন অনেকেই এখন শহরের বিভিন্ন গার্মেন্টস, অটোবাইক, সিএনজি ইত্যাদি যানবাহন ও ছোটখাটো ব্যবসার দিকে ঝুঁেক পড়ছে। কয়েকজন কৃষক জানিয়েছে, এখন শ্রমিকের দৈনিক মজুরী ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। তার উপর শ্রমিক সংকট। রয়েছে তিব্র শীতের সমস্যা। মুশুলী গ্রামের কৃষক মানিক মিয়া বলেন, তাঁর নিজস্ব গরু না থাকায় ইঞ্জিনচালিত পাওয়ার টিলার দিয়ে চড়া মূল্যে জমি চাষ করে করতে হয়। তার উপর তেল ও সারের মূল্য বেশি থাকায় বোরো আবাদ পোষানো কঠিন। এরপরও তিনি বোরো ধান রোপন করছেন। বালুয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন। তিনি শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি বলেন, এই শীতে কাদামাটির জমিতে কাজ করে শরীরের অবস্থাা খারাপ হয়ে গেছে। মজুরী বেশি নেওয়ার বিষয়ে জানাতে চাইলে সে বলে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেশি। মজুরী বেশি না নিলে পোষে না। নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, এ বছর উপজেলায় ২২ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো বিপর্যয় না ঘটলে ৮৭ হাজার ৭শত ৮৯ মে:টন ধান উৎপাদিত হবে। ল্যমাত্রা অর্জনের জন্য কৃষি বিভাগের প থেকে সার্বিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সরকার নির্ধারিত ১৩ জন ডিলার ও ১১৭ জন সাব ডিলারের মাধ্যমে প্রয়োজন মত সার সরবরাহ করা হবে। শীতকে উপেক্ষা করে এই এলাকার কৃষক বোরো আবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

