মালা নিবেন মালা,বকুল ফুলের মালা ……
স্টাফ রিপোর্টার
মোঃ আরমান হোসেন জয়(১১), টুটুল(১০)আরও কয়েক জন তারা স্কুলে পড়ে । যে বয়সে পড়ালেখার ফাঁকে খেলাধুলা করার কথা, সময়ের প্রয়োজনে সেই বয়সে ওরা ফুলের মালা বিক্রেতা।
স্কুলের ক্লাসের সময় ছাড়া বাকি সময়টুকু ওদের ব্যস্ত থাকতে হয়- ফুল কুঁড়ানো, মালা গাঁথা আর রাস্তার ধারে সেই মালা বিক্রি নিয়ে। কিশোরগঞ্জ টু ঢাকা ভায়া পাকুন্দিয়া সড়কের কালটিয়া বাজার সংলগ্ন দেখা মেলে এরকম কয়েকজন শিশু ফুলের মালা বিক্রির জন্য রাস্তার পাশে দাড়ানো ।
মাইক্রো, বাস, মোটরসাইকেল আসলে বা মানুষ দেখলেই বলছে, মালা কিনবেন মালা। যদি কোন গাড়ি দাড়ায় তাহলে গাড়ি অনুপাতে মূল্য বলে, সর্ব নিম্ন পাঁচ(৫)টাকা সর্বোচ্ছ পঞ্চশ(৫০)টাকা।
এই সব শিশুর সাথে কথা হয় দৈনিক আমার বাংলাদেশ টিমের।
জানায়, তারা সকলেই স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের লেখাপড়া করে। বাবার অল্প আয়ে সংসার তাদের পড়ালেখার খরচও দিতে পারে না । তাই তাদের পড়ালেখার ও টিফিন খরচ জোগাতেই ফুল বিক্রি করছে।
কেউ কেউ পড়ালেখার খরচ চালিয়ে বাবাকেও সাহায্য করছে ফুল বিক্রি করে। এসব শিশু ভোরে বের হয় ফুল কুঁড়াতে। সময় হলেই তারা স্কুলে যায়। স্কুল শেষ হলেই বেরিয়ে পড়ে ফুল নিয়ে।
এখন বকুল ফুলের মৌসুম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা বকুল ফুলের মালা বিক্রি করে।যাদের সাকলে স্কুল তারা বিকালে যাদের বিকালে স্কুল তারা সকালে, যেদিন স্কুল বন্ধ থাকে, সেদিন সকালেই ফুল বিক্রি করতে বেরিয়ে পড়ে।
ফুল বিক্রেতা শিশু জয় নামের একজন বলে, আমি প্রতিদিন প্রায় ২০টি মালা বিক্রি করতে পারি। আমার বাবা অটোরিক্সা চালাক । বাবার পাশাপাশি আমি ফুলের মালা বিক্রি করে সংসারের জন্য কিছু অর্থ উপাজন করি।
একইভাবে অন্যরাও ফুলের মালা বিক্রি করে নিজে পড়ালেখা করছে। দরিদ্র মা বাবাকে একটু অর্থনৈতিক সহযোগিতা করছে এসব শিশুরা।
পরনির্ভর বা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে না জড়িয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে পড়ালেখায় আঁকড়ে থাকায় তাদের সাধুবাদ জানায় সাধারণ মানুষ।

