হোসেনপুরে ৮ মাসেই বদলে গেছে ভূমি সেবা, কমেছে মানুষের ভোগান্তি
মোঃ শামছুল হক, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদানের মাত্র আট মাসের মধ্যেই ভূমি সেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি), এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌরসভা প্রশাসক মুহাম্মদ মোহসী মাসনাদ। প্রশাসনিক দক্ষতা, কঠোর তদারকি ও দ্রুত সেবা নিশ্চিতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি নির্ধারিত ফিতেই নামজারি সম্পন্ন করা হচ্ছে। অধিকাংশ আবেদন ১২ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত মিসকেসগুলো দ্রুত শুনানির মাধ্যমে সমাধান হওয়ায় দীর্ঘদিনের জটও অনেকাংশে কমে এসেছে।
উপজেলা ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ বলছেন, আগের তুলনায় এখন অনেক সহজে ও হয়রানি ছাড়াই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। সিদলা গ্রামের সুমন মিয়া, পুমদীর গোলাপ মিয়া ও হলিমার খাইরুল ইসলাম বলেন, “কাগজপত্র ঠিক থাকলে এখন আর ভোগান্তি হয় না। অল্প সময়েই নামজারি হাতে পাওয়া যাচ্ছে।”
শুধু ভূমি সেবাই নয়, নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমেও বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তিনি। বালু উত্তোলন, মাদক, ভোক্তা অধিকার, বাজার মনিটরিং এবং জ্বালানি তেল সংক্রান্ত অনিয়মে পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন দিনরাত।
অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগে ট্রাক্টর জব্দ, অর্থদণ্ড ও মামলা দায়েরের পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ীদের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বেপরোয়া বালুবাহী ট্রাক্টর ও ট্রলির দৌরাত্ম্য কমে যাওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনাও অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।
মাদকবিরোধী অভিযানে সক্রিয় ভূমিকার কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন বলেও জানান স্থানীয়রা। একই সঙ্গে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও সফলতার সঙ্গে পালন করছেন তিনি।
হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র মাহবুবুর রহমান বলেন, “এসিল্যান্ড একজন সৎ, যোগ্য ও কর্মদক্ষ কর্মকর্তা। তিনি যোগদানের পর থেকেই ভূমি সেবার মান উন্নয়ন হয়েছে, মানুষের ভোগান্তিও কমেছে। এমন নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা প্রতিটি অফিসে থাকলে উপজেলা এগিয়ে যেতে বেশি সময় লাগবে না।”
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ মোহসী মাসনাদ বলেন, “সরকার আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছি। আমি চাই হোসেনপুরের মানুষ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাক। ভূমি সংক্রান্ত সেবার জন্য নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”

