তাড়াইলে ৫০ শতাংশ জমির করলা-চিচিঙ্গা গাছ উপড়ে দিল দুর্বৃত্তরা
মো. মনির হোসেন: কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় ৫০ শতাংশ জমির করলা ও চিচিঙ্গার গাছ রাতের আঁধারে উপড়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৭ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার নয়নসুখ গ্রামের ডুবাইল বিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন স্থানীয় কৃষক আঞ্জু মিয়া (২৫)।
আঞ্জু মিয়া তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের নয়নসুখ গ্রামের দুলাল ব্যাপারীর ছেলে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আঞ্জু মিয়া বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে তিনি এককালীন জমা দিয়ে ৫০ শতাংশ জমি বন্ধক নিয়েছিলেন। সেখানে করলা ও চিচিঙ্গার চাষ শুরু করেন। গাছগুলো ভালোভাবেই বেড়ে উঠছিল। কিন্তু সোমবার ভোরে জমিতে গিয়ে দেখেন, প্রায় হাজারখানেক গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, এত বড় ক্ষতির শিকার হব ভাবতেও পারিনি। কারো সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই। আমি মানুষের কাছ থেকে জমি নিয়ে চাষ করে সংসার চালাই। এই জমির উপরেই আমার পরিবার নির্ভরশীল। জমিতে প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। আর সপ্তাহ দুই পরেই বিক্রি শুরু হতো প্রায় ৬ লাখ টাকা আয় হতে পারত। এই ঘটনায় আমি ও আমার পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম।
আঞ্জুর মা হেনা আক্তার বলেন, আমাদের কোনো জমিজমা নেই। এই জমিটাই ছিল আমাদের ভরসা। আমার ছেলেদের এইভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, উদ্দেশ্যমূলকভাবে একজন গরিব কৃষকের স্বপ্ন ও পরিশ্রমকে ধ্বংস করা হয়েছে।
নয়নসুখ গ্রামের বাসিন্দা আবু হানিফ বলেন, আঞ্জু মিয়া একজন গরিব মানুষ। তার নিজের কোনো জমি নেই মানুষের কাছ থেকে জমি নিয়ে চাষ করে চলে। তারা কোনো ঝামেলার মধ্যে নেই। কয়েকদিন আগে এলাকায় একটা গণ্ডগোল হয়েছিল, সম্ভবত সেই ঘটনার প্রতিপক্ষ এভাবে প্রতিশোধ নিতে এমন কাজ করেছে।
স্থানীয় কৃষক হাসেম মিয়া বলেন, দুলাল ভাইয়ের ছেলেরা জমি বন্ধক নিয়ে চাষ করে সংসার চালায়। এইভাবে গাছগুলো উপড়ে ফেলায় ওদের এখন না খেয়ে মরতে হবে। আমরা প্রশাসনের কাছে এর বিচার চাই।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি থানায় অবহিত করা হয়েছে। তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাব্বির রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত জঘন্য। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

