জম্পেশ লড়াই হবে

জিতলেই ফাইনাল নিশ্চিত। হারলে বিদায়। এই সমীকরণ নিয়ে আজ প্রথম সেমিফাইনালে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা-ক্রোয়েশিয়া। বলতে গেলে এই ম্যাচ খেলোয়াড়দের জন্য জীবন মরণের ম্যাচ। জম্পেশ লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে ৩৬ বছরের শিরোপা খরায় থাকা আর্জেন্টিনা, অপরদিকে ২০১৮ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠেও হেরে যাওয়া ক্রোয়েশিয়া। তাই এই ম্যাচটি যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

আমার মনে হয় আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে ধাক্কা খাওয়ার পর যেভাবে ছুটছে তাদের থামানো কঠিন। কোয়ার্টার ফাইনালে আমরা দেখেছি নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে প্রথমে দুই গোল করে এগিয়ে যাওয়া। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ করে নেদারল্যান্ডসকে এক প্রকার কোণঠাসা করে রাখা। তবে শেষদিকে নেদারল্যান্ডস কামব্যাক করে ভালো ফাইট দিয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে তারা হেরে যায়। সেই ম্যাচে লিওনেল মেসি, জুলিয়ার আলভারেজ, ডি পলরা যেভাবে খেলেছে তাতে মনে হয়েছে তারা জয়ের জন্য মুখিয়ে ছিল। নির্ধারিত সময় যখন ২-২ গোলে ড্র হলো এরপর এক্সট্রা টাইমে অন্য আর্জেন্টিনাকে দেখা গেছে। তাদের মধ্যে ইচ্ছাশক্তি ছিল যে তাদের জিততেই হবে। বেশ কয়েকটি আক্রমণও করেছে তারা। যদিও গোলের দেখা পায়নি। তবে পেনাল্টি শুটআউটে মার্তিনেজ ছিল দুর্দান্ত।

Croatia vs Argentina: Key Factors In FIFA World Cup Semi-final Clash |  Football News

 

আর ব্রাজিলের বিপক্ষে শুরুর দিকে ক্রোয়েশিয়া সেভাবে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে নাই, তবে কিছু সময় পর তারা নিয়ন্ত্রণ নেয়া শুরু করে। ভেবেছিলাম ব্রাজিলের পেছনে ক্রোয়েশিয়া দৌড়াবে কিন্তু লুকা মড্রিচ একাই যে খেলাটা খেলেছে তার প্রশংসা না করলেই নয়। তার সারা মাঠে বিচরণ দলের শক্তি জুগিয়েছে। আক্রমণ থেকে শুরু করে মিডফিল্ড কিংবা ডিফেন্স সব জায়গায় খেলেছেন তিনি। পাশাপাশি তাদের গোলরক্ষক লিভাকোভিচের প্রশংসা না করলেই নয়। পুরো ম্যাচে তিন থেকে চারটা সেভের পর টাইব্রেকারে একটি সেভ।

এগুলো বললাম কোয়ার্টার ফাইনালের কথা। এখন সেমিফাইনাল নিয়ে বলতে গেলে বলব আর্জেন্টিনার যেমন মেসি-মার্তিনেজ আছে ক্রোয়েশিয়ার আছে মড্রিচ-লিভাকোভিচ। ডি পলের সঙ্গে তুলনা করা যায় পেরিসিচের। এর আগে আর্জেন্টিনা ও ক্রোয়েশিয়া ৫ বার মুখোমুখি হয়েছে। যেখানে আর্জেন্টিনার দুই জয়ের বিপরীতে ক্রোয়েশিয়াও জিতেছে দুটি ম্যাচ। অপর ম্যাচটি হয় ড্র। সর্বশেষ দেখায় ২০১৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। আর্জেন্টিনা চাইবে তার প্রতিশোধ নিতে। যদি মেসিরা তাদের স্বভাবসুলভ খেলাটা খেলতে পারে এবং গোল করতে মুন্সিয়ানা দেখাতে পারে পাশাপাশি ডিফেন্ডার রোমেরো, মার্তিনেজরা লুকা মড্রিচ-পেরিসিচদের আটকে দিতে পারে তাহলেই আর্জেন্টিনা জয় পাবে বলে মনে করছি। আর ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়রা মেসিকে কোনো সুযোগ তৈরি করতে না দিয়ে পাশাপাশি রক্ষণে নজর দিয়ে আক্রমণ করে তাহলে তাদের জয়ও আসতে পারে। নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না কোন দল জিতবে। তবে আশা রাখছি জয়টা আর্জেন্টিনার হোক।

বাংলাদেশের ভক্তরা মুখিয়ে আছে আর্জেন্টিনার জয় দেখার জন্য। আর মেসির শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে আর্জেন্টিনাও চাইবে যে কোনো মূল্যে সেমিফাইনাল জিতে ফাইনালে যেতে। মেসিকে একটা শিরোপা উপহার দেয়াই তাদের লক্ষ্য। আর্জেন্টিনা জিতে যেন দেশে থাকা সমর্থকদের আনন্দ উল্লাসের জোয়ারে ভাসাতে পারে সেই কামনা করছি।

Credit: bhorerkagoj

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries