কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে রথখলা পুকুরটি মশার নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিনত
আমিনুল হক সাদী: কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের রথখলা এলাকায় স্বর্গীয় বিরাজ মোহন রায়ের পুকুরটিতে কচুরীপনা ও ময়লা আর্বজনার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। পুকুরের দক্ষিন ও উত্তরের অংশে প্রায় ৫০ শতাংশ ভূমি ভরাটও করা হয়েছে। বর্তমানে পুকুরে ডেঙ্গু মশা ও চিকন গুনিয়া মশাসহ নানাবিধ সমস্যা সৃষ্ট হয়ে জীব বৈচিত্র মারাত্বক হুমকির সম্মুখিন হয়ে পড়েছে। পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে সবাইকে। এভাবেই বলছিলেন জেলা শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ সাইফুল ইসলাম। শুধু তিনিই নন তার মতো ফেরদৌস কোরাইশি খোকা, জীবন কুমার রায় একেএম মোফাজ্জল হোসেনসহ আরও অনেকেই এ কথাটির সমর্থন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে জানাগেছে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের রথখলা এলাকায় অবস্থিত পুকুরটি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও পুকুরে দক্ষিন ও উত্তরের দিকে ভরাট করে দোকানপাট নির্মানের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা পুকুরটি পরিস্কার পরিচ্ছনতার দাবি জানিয়ে পরিবেশ সংরক্ষন আইনে পুকুরটিকে রক্ষার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাড. গোলামুর রহমান খান বলেন পুকুরটির বিষয়ে উর্ধ্বন কর্তৃপক্ষের কাছে করলেও কোন কার্যকরি ব্যবস্থা নেয়নি কেউ। বর্তমানে পুকুটিতে বিভিন্ন মশার নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিনত হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান জেলা শহরের অগ্নি কান্ডের ঘটনা ঘটলে পানির কারনে আগুন নিভানো কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। সেকান্দর আহমেদ জানান সম্প্রতি নগুয়া প্রথম মোড়ে অবস্থিত একটি পুকুর রাতের আধারে ভরাট করে ফেলা হচ্ছিলো। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি গোচর হলে কয়েক জনকে গ্রেফতারও করা হয়। বর্তমানে সে পুকুরটিও কুচুরীপনায় ভরেগেছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে ছোট বড় প্রায় ৫৩টি পুকুর রয়েছে তার মধ্যে ২৯টির মতো সংস্কার যোগ্য আছে, বাকি গুলো ভরাট হয়েগেছে। যেগুলো আছে সেগুলোও অপরিস্কার অপরিচ্ছন্ন ও কচুরীপনায় ভরেগেছে। পুকুর গুলো ময়লা আবর্জনা অপসারণ করে চুন বিসিলিং ও ফিটকারী ছিটিয়ে ব্যবহার উপযোগী করার অনুরোধ জানান।
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিরাজ মোহন রায়ের পুকুরটির বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ না পেলেও বিষয়টি দেখবেন বলে তিনি জানিয়েছেন। মশক নিধনে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ঔষধ ছিটানো হচ্ছে। নরসুন্দার কচুরীপনাসহ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যহত রয়েছে।

