নদী ভাঙনের হুমকিতে তাড়াইলের হিন্দু অধ্যুষিত মাখনাপাড়া গ্রাম

আমিনুল ইসলাম বাবুল
নরসুন্দার অব্যাহত ভাঙনে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের মাখনাপাড়া গ্রামের শত বছরের পুরনো অষ্টমী স্নানঘাট, শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ্র মন্দির, শ্মশানঘাটসহ আশেপাশের শতাধিক কাঁচা-পাকা ঘরবাড়ি ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। বিলীন হয়ে যেতে পারে নদীগর্ভে । এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সামনে তাড়াইল উপজেলার দামিহা ইউনিয়নের মাখনাপাড়া গ্রামের মানচিত্র নরসুন্দার ভাঙনে আরও ছোট হয়ে যাবে। সর্বস্ব হারাবে নদীপাড়ের অবশিষ্ট মানুষ। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ফাটল ধরেছে রাধা গোবিন্দ্র মন্দির, স্থানীয় শ্মাশানঘাটটি। এর কারণে স্থানীয় বকুল বর্মন, রাম কৃষ্ঞ বমর্নের বসতঘর থেকে আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানান্তর করা হয়েছে পাশের একটি বাড়িতে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অষ্টমী স্নানঘাট, গাছ-পালা মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। ঠিক এ মুহূর্তে সেখানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ নদীতে ফেলে ভাঙনে সর্বহারা অসহায় লোকদের সাহায্য দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করলে ভালো হতো। আর স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধে সরকারের দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন। নদী ভাঙনের ফলে গৃহহারা বকুল বর্মন জানান, মাখনাপাড়া স্নানঘাট এলাকায় তার বাড়ি ছিল। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সেখান দিয়ে আজ নৌকা-ট্রলার যায়। তিনি বলেন, নদীতে জিও ব্যাগ ফেলে রাধা গোবিন্দ্র মন্দিরসহ গ্রামবাসীকে নদী ভাঙনের হাত থেকে রা করা হোক। সরকারি সাহায্য সহযোগিতাই তিগ্রস্ত অসহায় ওই মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ি সামির হোসেন সাকী ও স্কুল শিক্ষক কেশব পাল সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। মানুষের ঘর-বাড়ি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষা পাচ্ছে না। নদীতে জিও ব্যাগ ফেলে নদীর ভাঙন ঠেকানোসহ স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে মানুষের ঘরবাড়ি, অষ্টমী স্নানঘাট, শ্মশানঘাট নদীর পেটে চলে যাবে। এলাকাবাসীর দাবি, ভাঙন রোধে স্থায়ীভাবে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সামনে ওই দামিহা ইউনিয়নের মানচিত্র নরসুন্দার ভাঙনে আরও ছোট হয়ে যাবে। সর্বস্ব হারাবে নদীপাড়ের অবশিষ্ট মানুষ। ভাঙন কবলিত এলাকার নারায়ন চন্দ্র বর্মন জানান, এ বছর বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই নরসুন্দা ভাঙতে ভাঙতে মন্দির পর্যন্ত চলে এসেছে। গত এক মাস ধরে ভাঙন শুরু হয় হিন্দু অধ্যুষিত শত বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী তাড়াইল বাজারের পূর্ব পাশ মাখনাপাড়া অষ্টমী স্নানঘাট । তিগ্রস্ত একজন জানান, তারা বর্ষার আগেই চেয়েছিলেন নরসুন্দার উত্তর তীরে মাখনাপাড়া গ্রামটি রায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ। কিন্তু প্রশাসনের প থেকে কার্যকর ব্যবস্থায় নেওয়া হয়নি। তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লুৎফুন নাহার বলেন, সংবাদ পেয়ে আমি মাখনাপাড়া গ্রামের নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে কথা বলেছি। তারা আগামীকাল (৮ নভেম্বর) এসে দেখবে।

 

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries