করিমগঞ্জের আসাদ একজন আদর্শ কৃষকের দৃষ্টান্ত

আমিনুল হক সাদীঃ
আত্মপ্রত্যয়ী এবং কঠোর পরিশ্রমী এক মানুষের নাম মোঃ আসাদ, বয়স ৩৮। করিমগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার বাহাদুরপুর গ্রামে তার বসবাস। কৃষি যেন তার রক্তে মেশানো। অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে শুধুই এগিয়ে চলা। কৃষক, কৃষি কর্মকর্তাসহ অসংখ্য মানুষের কাছে অতিপরিচিত মুখ আসাদ। ঔষধী ও ফলদ বৃরে বাগান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এলাকায়। এছাড়া গত মৌসুমে টমেটো ও চিচিঙ্গা চাষ করে পেয়েছেন ব্যপক সফলতা। ফুলকপি, বাঁধাকপি, পুইশাক, হলুদ, মরিচ, খেসারিডালসহ বহুমুখী ফসলের আবাদের পাশাপাশি মৎস্যচাষ, মুরগীর খামার, গরু ও ছাগল পালনেও সাফল্য পেয়েছেন। তাই একজন আদর্শ কৃষক হিসেবে তার নাম ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। প্রথমে পুকুরে মাছ চাষ। রুই, কাতল, তেলাপিয়া, সিলভারকার্পের পোনা বড় হতে দেখে আসাদের চোখ ছানাবড়া। উৎসাহ বেড়ে গেল দ্বিগুণ। পরের বছর যোগ হয় ধানের সঙ্গে পেঁপে ও কলা চাষ। সাথীফসল হিসেবে যোগ হতে থাকে শাকসবজি, ফলজবৃ, ঔষধী ও ডালজাতীয় ফসলের আবাদ। খরচের তুলনায় লাভ খুব একটা না হলেও আসাদের চোখে অন্যরকম আনন্দ। শখ হল নিজের জমিতেই ফলের চাষ করা। চারার জন্য খোঁজাখুঁজি চলল বিভিন্ন জায়গায়। অবশেষে ২০১৭ সালে আম্রপালি জাতের ২৫০ টি আমের চারা ও ৪০০ টি গাইনোরা চারা রোপণ করে বাগান শুরু।

প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক কৃষক তার সবজি তে দেখতে ও পরামর্শ নিতে আসেন। আসাদ জানান, বিগত কয়েক বছর থেকে জমিতে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তোলেন। তার খামারে একসঙ্গে চাষ হচ্ছে মিষ্টি কুমড়া, শিম, বরবটি, পেঁপে, বেগুন, মরিচসহ নানা ধরনের সবজি। খামারে উৎপাদিত বিষমুক্ত শাকসবজি পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে নিয়মিত দূর-দূরান্তের হাট বাজারে বিক্রি হচ্ছে। পোকা দমনে এই সবজি খামারে ব্যবহার হচ্ছে সেক্সফে মেন ফাঁদ এবং জৈব সার। এতে সবজির উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তিনি।

করিমগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার এমদাদুল হক জানান, আসাদ একজন আদর্শ কৃষক। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরণ কর্মকর্তা জানান, আসাদ কৃষি অধিদপ্তর থেকে কৃষক প্রশিণ গ্রহণ করেছেন। প্রশিণ গ্রহণের পর থেকে তিনি বিষমুক্ত সবজিসহ মৎস্ ও গবাদি পশুর খামার গড়ে তুলেছেন। ইতোমধ্যেই তিনি বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিভিন্ন সময় তার খামার পরিদর্শন করে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। তার এই খামার শুধু এই উপজেলায় নয়। জেলা, বিভাগসহ সারা দেশে কৃষি েেত্র দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries