মহানুভবতার দেয়াল, স্বপ্নপূরণে এক ধাপ এগিয়ে

নজরুল ইসলাম খায়রুল:
সকলে মিলে চালু করলাম মহানুভবতার দেয়াল, মজবুত ভিত্তির আশায় দৃঢ় চেতনায়! সোনামনিদের মাঝে গড়ে উঠুক সহযোগিতামূলক মনোভাব, পড়াশোনার সাথে সাথে তারাও সমৃদ্ধ হোক চিন্তায়, চেতনায়, বিবেকে ও মননে! একটু একটু করেই আমরা কাজ শুরু করি, ইনশাআল্লাহ পরিবর্তন আসবেই একদিন।

এভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে পোস্ট করেন। পুরো নাম তানজিনা নাজনীন। তিনি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দণি মুকসেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক। গত মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তিনিসহ শিকরা মিলে তাঁদের স্কুলে একটা দেয়াল তৈরি করেছেন। দেয়ালের নাম দিয়েছেন ‘মহানুভবতার দেয়াল’। দেয়ালের একপাশে লেখা রয়েছে-তোমার যা প্রয়োজন নেই তা এখানে রেখে যাও। দেয়ালের আরেক পাশে লেখা রয়েছে-তোমার দরকারি জিনিস পেলে নিয়ে যাও। এরপর থেকেই সেই দেয়ালে ছাত্রছাত্রীরা তাদের অব্যবহৃত ও অপ্রয়োজনীয় জামা ও অন্যান্য জিনিসপত্র রেখে ভরে ফেলেছেন। যাদের যেটা দরকার তারা তা নিজের মনে করে নিয়ে যাচ্ছেন।

গত বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, ৫ম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পরীা চলছিলো। দু’টি কে তারা পরীা দিচ্ছেন। একটি করে ভিতর প্রধান শিক তানজিনা নাজনীন পরীা নিচ্ছেন। এরই মধ্যে বাহিরে এই প্রতিবেদককে দেখে পরীার ক থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। পরে অফিস কে কথা হয় তার সঙ্গে।
তিনি জানান, হঠাৎ খেয়ালি মনে এমন আইডিয়া আসে তার। পরে সহকর্মী শিকদের সাথে এ বিষয়টি শেয়ার করেন। তারাও রাজি হয়ে যান। পরে নিজেদের টাকায় কালি আর তুলি কিনে নিজেরাই দেয়ালে লেখেন কথাগুলো। আর নাম দেন ‘মহানুভবতার দেয়াল’। এবিষয়টি জেনে বিদ্যালয়ের এসএমসি’র সভাপতি তমিজ উদ্দিনও সহযোগিতার কথা জানান। এরপর স্কুলের ছাত্রছাত্রীসহ তাদের অভিভাবকরাও তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

দণি মুকসেদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ সালে স্থাপিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের চার ক বিশিষ্ট সেমিপাকা ভবনটি পুরোনো হয়ে গেছে। পাশেই নতুন করে দু’তালা পাকা ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। বর্তমানে শিশু শ্রেণিসহ ৫ম শ্রেণির পর্যন্ত মোট ১৬৫ জন শিার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রধান শিকসহ চারজন শিক দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রধান শিক হিসেবে তানজিনা নাজনীন ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এর পর তিনি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মেধা বিকাশ ও কল্যাণের জন্য নানামুখী কার্যক্রম হাতে নেন। এর মধ্যে হাতধোয়া কর্মসূচিতে যেসব শিার্থী ভালো করেছে তাদেরকে পুরস্কার হিসেবে নিয়মিত কলম উপহার দেন। এছাড়াও দরিদ্র মেধাবী শিার্থীদেরকে কাগজ ও কলম দিয়ে সহযোগিতা করেন। এরই মধ্যে বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিার্থীদের নিয়ে শ্রদ্ধাভক্তি ও নৈতিকতা শিা নেয়ার জন্য মায়েদের পা ধোয়া কর্মসূচি করা হয়েছে। অভাবগ্রস্ত শিার্থীদেরকে স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ দেয়ার ব্যবস্থা চালু করেছেন।

বিদ্যালয়ের শিার্থীদের নিয়ে নানান স্বপ্ন আর বাস্তবায়নে স্থানীয় লোকজনদের সাথে আলাপ আলোচনাও হচ্ছে, এমন কথাও জানান প্রধান শিক তানজিনা নাজনীন।

Sultan Rayhan Uddin

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries