অক্সফোর্ডের আলচিত সেই করো’নার ভ্যাকসিন শরীরে নিয়ে কেমন আছেন এলিসা

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক তৈরি করেছে একটি কোন ভাই’রাসের কার্যকারী ভ্যাকসিন। অধ্যাপক সারা গিলবার্ট এর নেতৃত্বে এই গবেষক দলটি বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন ভাই’রাসের ক্ষেত্রে একটি কার্যকরী ওষুধ তারা খুঁজে পেয়েছে বলে দাবি করছে। তারা এই ওষুধ টা নিয়ে ৯০% আশাবাদী বলে জানা যাচ্ছে। তারই ফলশ্রুতিতে এবার দেখা গেল যেখানে বিভিন্ন দেশ প্রথমে কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার করলে তা প্রা’ণীদেহে প্রয়োগ করে তারপর মানবদেহে প্রয়োগ করে কিন্তু এটি হচ্ছে না এটি সরাসরি মানব দেহে প্রয়োগ করা হয়েছে যাতে করে সময়ক্ষেপণ না হয়

রোববার সকালে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন সেন্টারে গবেষকরা এলিসার শারীরিক পরীক্ষা করেন এবং তার শরীর থেকে র’ক্তের নমুনা নেন। র’ক্তের নমুনা পরীক্ষার পর জানা যাবে, এলিসার শরীরে রোগপ্রতিরোধী এন্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা।এন্টিবডি তৈরি হলে তার শরীরে করো’নাভাই’রাস ঢুকিয়ে দেয়া হবে। যদি এলিসার শরীরে তৈরি হওয়া এন্টিবডি করো’নাভাই’রাসকে মে’রে ফেলতে সক্ষম হয়, তাহলেই ধরে নেয়া হবে যে সারাহ গিলবার্ট আবিষ্কৃত চ্যাডক্স -১৯ ভ্যাকসিনটি শতভাগ সফল ও কার্যকর হয়েছে।

এলিসা গ্রানাতোর শারীরিক সুস্থতা স’ম্পর্কে নিশ্চিত করে  স্বাস্থ্য বিষয়ক সংবাদদাতা ফারগাস ওয়ালশ বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ঐসব খবর নেহাতই গুজব। ড. এলিসা গ্রানতো ভালো আছেন এবং সুস্থ আছেন।

ড. গ্রানাতোর সাথে রোববার স্কাইপে’তে সংবাদদাতার কয়েক মিনিট কথাও হয়। ওই সময় ভ্যাকসিন ভলান্টিয়ার, যিনি পেশায় একজন মাইক্রোবায়োলজিস্ট; জানান, তিনি খুবই ভালো আছেন। আজকের সুন্দর রোদ উপভোগ করছেন তিনি।

ড. গ্রানাতো জানান, তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সাথে অনলাইনে গ্রুপচ্যাট করেছেন, এবং তাদের আশ্বস্ত করেছেন যে কোথাও তার মৃ’ত্যুর খবর দেখলে তারা যেন ঘাবড়ে না যায়।

অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন কর্মসূচির প্রধান প্রফেসর অ্যান্ড্রু পোলার্ড – যিনি প্রথম মানবদেহে এই ভ্যাকসিন পরীক্ষায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন – বলেন, এই ধরণের গুজব এই প্যানডেমিক মোকাবেলায় চেষ্টায় সমস্যা তৈরি করবে। এমন গুজব ছড়াতে দেওয়া যায় না।

এলিসা গ্রানাতো ইউরোপে প্রথম ব্যাক্তি যার দেহে প্রথম পরীক্ষামুলকভাবে করো’নাভাই’রাসের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তাকে টিকা দেওয়া হয় বৃহস্পতিবার বিকালে। এলিসার দেহে এন্টিবডি তৈরি হলেই সারাহ গিলবার্ট আবিষ্কৃত চ্যাডক্স -১৯ ভ্যাকসিনটি প্রবেশ করানো হবে।

উল্লেখ্য, করো’না ভাই’রাস এর ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকরা তাদের সবারই একটাই চিন্তা যে যেকোনো মূল্যে এই ভাই’রাসটি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য একটি কার্যকরী প্রতিষেধক প্রয়োজন । মূলত এ কারণেই দিনরাত এক করে বিভিন্ন দেশের গবেষকরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে করে কোনো ইতিবাচক ফল তারা হাতে পায়।এরইমধ্যে লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক একটি কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে বলে তারা দাবি করেছেন এবং এই ভ্যাকসিন টি ইতিমধ্যে একজন বিজ্ঞানীর দেহে প্রয়োগ করা হয়েছে