কিছু বিষয় জানার কারণে ১৪০০ বৎসর পূর্বের চাইতে বর্তমানে কুরআনের প্রতি ইমান আনা সহজ

রিয়াদ আহমেদ তুষার

কাঙ্খিত লেখাটি পোষ্ট করার পূর্বে ছোট্ট এই বিষয়টি মাথায় আসলো। বিজ্ঞানের অগ্রগতির মাধ্যমে আমরা কুরআনের কিছু বিষয় জানতে পেরেছি যা ১৪০০ বৎসর পূর্বে জানার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। তখন শুধু এই সকল আয়াতগুলো পড়ে তার সত্যতা জানতে না পেরেও তা বিশ্বাস করতে হতো। এখন এসবের সত্যতা আমরা জানতে পেরেছি। এখন এসব কথা বললে সকলেই একবাক্যে মেনে নিবে। নিম্নে মাত্র কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করছি।

১) কুরআনে আল্লাহ বহুবার বলেছেন, তোমরা পৃথিবীতে যা করছ তা তোমাদেরকে দেখানো হবে। বর্তমানে সিসিটিভি রেকর্ডিং এর মাধ্যমে আমরা কি করি তা পরবর্তীতে আবার দেখানো সম্ভব যা ১৪০০ বৎসর পূর্বে সম্ভব ছিল না।

২) কুরআনে আল্লাহ অনেকবার বলেছেন, তোমাদেরকে কান, চোখ এবং অন্তর দিয়েছেন। এখন আমরা জানতে পারি পেটের ভিতরে বাচ্চার প্রথমে কানে শোনার ক্ষমতা আসে তারপর চোখে দেখার ক্ষমতা আসে।

৩) কুরআনে একটি পিঁপড়া তার সাথের অন্যান্য পিঁপড়াদেরকে সতর্ক করার ঘটনা বর্ননা করা আছে। বর্তমানে আমরা জানতে পারি পিঁপড়াদের মধ্যে এমন ব্যবস্থা আছে যে তারা দিক নির্দেশনার মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করে। অথচ এগুলো তখনকার সময়ে কল্পকাহিনির মতো মনে হওয়ার কথা।

৪) ১৪০০ বছর পূর্বে কুরআনে আল্লাহ জানান (তখন থেকে আনুমানিক ১৫০০বৎসর পূর্বে) ফেরাউন পানিতে ডুবে মারা যায় এবং তার লাশ আল্লাহ সংরক্ষণ করে রাখেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিদর্শন স্বরূপ। আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি প্রায় ১০০ বছর পূর্বে ফেরাউনের লাশ আবিষ্কৃত হয়েছে। তখন রাসুলুল্লাহ (সা)সহ সকলকে শুধু এই আয়াত বিশ্বাস করতে হতো আর আমরা তা নিজের চোখে দেখতে পাচ্ছি।

৫) কুরআনে আল্লাহ বহুবার বলেছেন, কেয়ামতের দিন পিতা-পুত্র, মা-বাবা, সন্তান সন্ততি কেউ কারো কাজে আসবে না। করোনার কারণে এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি শুধু সংক্রমণের ভয়ে পিতা পুত্রের কাছে, পুত্র পিতার কাছে, সন্তান তার মায়ের কাছে যাচ্ছে না বা কোনো কাজে আসছে না। যেখানে সংক্রমণের পর ২-৩% মানুষ মারা যাচ্ছে। এখন চিন্তা করে দেখুন যখন জান্নাত জাহান্নামের চূড়ান্ত ফয়সালা করা হবে তখন আসলেই কেউ কারো কাজে আসবে না। বর্তমানে কোভিট ১৯ এর কারণে এই বিষয়টি বিশ্বাস করা অনেক সহজ হয়ে গেল।

তবুও বর্তমানে কুরআনের সকল আয়াতের প্রতি ইমান আনা মানুষের সংখ্যা ওই সময়ের মানুষের সংখ্যার চাইতে কম হবে।