ছাত্রলীগ নেতার দুই পায়ে গুলি, কাদের মির্জার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ছাত্রলীগের এক নেতার দুই পায়ে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়া ওই ছাত্রলীগ নেতার নাম করিম উদ্দিন ওরফে শাকিল (২৪)। তিনি বসুরহাট পৌরসভা ছাত্রলীগের সদস্য। তাঁর বাবা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেলিম।

উপজেলা আওয়ামী লীগের মুখপাত্র ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাগনে মাহবুবুর রশিদ ওরফে মঞ্জু এ হামলার ঘটনার জন্য তাঁর মামা বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী কেচ্ছা রাশেলকে দায়ী করেছেন। অভিযুক্ত কেচ্ছা রাশেল পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। ইতিপূর্বে অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কেচ্ছা রাশেলের নেতৃত্বে কাদের মির্জার একদল অনুসারী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মেস্ত্রি বাড়ির সামনে ছাত্রলীগ নেতা করিম উদ্দিনের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলকারীরা করিমের দুই পায়ে একাধিক গুলি করে এবং তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে পালিয়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আবদুল আহাদ প্রথম আলোকে বলেন, দুই পায়ে গুলির আঘাত পাওয়া করিম উদ্দিন নামের এক তরুণকে বিকেলে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁরা তাঁকে জেলা সদরে রেফার করে দিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদেরের ভাগনে আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুর রশিদ অভিযোগ করেছেন, ‘মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে আমাকে ও আমার খালাতো ভাই রাহাতকে এবং ছাত্রলীগ কর্মী করিম উদ্দিন শাকিলকে হত্যার হুমকি দেয় কাদের মির্জার অনুসারী কেচ্ছা রাশেল। হুমকির এক দিন পর কেচ্ছা রাশেলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা করিম উদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কেচ্ছা রাশেল করিম উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে সে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য কাদের মির্জা ঘোষিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরীর মুঠোফোনে ফোন দিলে তিনি ফোন ধরেননি। পরে একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইউনুছের কাছে জানতে চাইলে সন্ধ্যায় তিনি বলেন, তিনি বোনের চিকিৎসার কাজে ফেনী রয়েছেন। এলাকার ঘটনা জানা নেই।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, বিকেলে করিম উদ্দিন নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীর ওপর একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে করিম উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের আলোকে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Source: Prothomalo

%d bloggers like this: