দৃষ্টি নন্দন অশোক ফুল – মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী

-লেখা ও ছবি ঃ মোহাম্মদ নূর আলম গন্ধী
অশোক মাঝারি আকারের ছায়া দানকারী চীর সবুজ বৃক্ষ। শাখা-প্রশাখা ঘন পল্লবময়। গড় উচ্চতা ২৫ থেকে ৩০ মিটার পর্যন্ত হয়। পাতার রং গাঢ় সবুজ,পাতা দীর্ঘ,চওড়া ও বর্শা ফলাকৃতির। কচি পাতা নমনীয়,কোমল, রং তামাটে বর্ণের হয়। ভেষজ গুণে গুণান্বিত এ অশোক গাছ বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় কম বেশী দেখতে পাওয়া যায়। উঁচু ভূমি ও প্রায় সব ধরনেরে মাটিতে জন্মায়। তবে সৌখিন বাগান,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগান,পার্ক,উদ্যানে শোভা বর্ধক হিসেবে অশোক গাছ লাগানো হয়ে থাকে। অশোক এ অঞ্চলেরই নিজস্ব বৃক্ষ। হিন্দু ও ধর্মাবলম্বি মানুষ জনের কাছে এ অশোক ফুল অত্যন্ত পবিত্র। উদ্ভিদ তাত্বিক নাম-Saraca Indical পরিবার-Fabaceae। ফুল ফোটার প্রধান মৌসুম বসন্তকাল। তবে এর ব্যাপ্তি হেমন্তকাল জুড়ে। তবে অন্যান্য ঋতুতেও গাছে কম পরিমাণে ফুল ফোটতে দেখা যায়। অশোক ফুল কান্ড থেকে শুরু করে শাখা-প্রশাখা জুড়ে ফোটে । এ বৈশিষ্ট অন্যান্য ফুল থেকে অনেকটাই ভিন্ন। ফুল আকারে ছোট তবে বহুপৌষ্পিক,গুচ্ছ। অজ¯্র ফুলের সমষ্টি অশোক ফুল মধুময় গন্ধযুক্ত। বর্ণ ও গড়নে এ ফুল অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তাজা ফুলের রং কমলা রঙের হয় এবং বাসি ফুলের রং হয় লাল। এর পরাগ কেশর দীর্ঘ। ভেষজ চিকিৎসায় অশোক গাছের ব্যবহার দীর্ঘ দিনের এবং রয়েছে বহুবিধ ব্যবহারও। এর ছাল,বীজ,ফুল বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়। বিশেষ করে মাসিক ¯্রাবের গোলযোগ,শে^ত প্রদর,ডায়াবেটিস.গলক্ষেত,মুত্রাশয়ের সমস্যায় ও রক্ত আমাশয়ে অশোক ব্যবহৃত হয়। ফল বড় সীমের আকার আকৃতির ,চ্যাপ্টা,পুরু এবং বেগুনি রঙের হয়। ফলের ভিতর থাকে বীজ,বীজ এর রং খয়েরি। বীজের মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা হয়। চারা গাছের বৃদ্ধি মন্থর গতির। মানগত দিক দিয়ে কাঠ নরম মানের হয়। সুশিথল ছায়া, আকর্ষণীয় ফুল ও ভেষজ গুণে গুণান্বিত অশোক গাছ সত্যিই প্রকৃতির এক অনন্য উপহার।

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

%d bloggers like this: