শরীরে ভিটামিন-ডি কম থাকলে করোনায় মৃত্যুঝুঁকি বাড়তে পারে, বলছেন গবেষকরা

যাদের শরীরে ভিটামিন-ডির পরিমাণ কম, তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুঝুঁকি বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রাথমিক গবেষণায় এমনটি দেখা গেছে বলে যুক্তরাজ্যের ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে। গবেষকরা ইউরোপের ২০টি দেশের মানুষের শরীরে ভিটামিন-ডির পরিমাণ যাচাই করে দেখেছেন, যেসব দেশের লোকজনের শরীরে ভিটামিন-ডি কম, সেসব দেশে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যুহার বেশি।

গবেষণাটি এখনো অন্য বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাই-পর্যবেক্ষণ হয়নি এবং ভিটামিন-ডি গ্রহণ করলে কেউ করোনাভাইরাস সংক্রমিত হবেন না, এমন কোনো প্রমাণও নেই। যুক্তরাজ্যের কুইন এলিজাবেথ হসপিটাল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও ইস্ট অ্যাংলিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকরা তাঁদের গবেষণাপত্রে লিখেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ভিটামিন-ডি সাপ্লিমেন্ট কাজে দিতে পারে।’

যুক্তরাজ্যের মেডিসিনের ইমেরিটাস অধ্যাপক জন রোডস বলেন, ভিটামিন-ডি শরীরের অভ্যন্তরীণ জ্বালাপোড়া কমাতে সহায়তা করে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অত্যন্ত অসুস্থ ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ প্রদাহের কারণে ফুসফুসে বড় ধরনের ক্ষতি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর হতে পারে ভিটামিন-ডি। তবে এ বিষয়ে আরো অনেক গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করেন অধ্যাপক রোডস।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত, অর্থাৎ শীতকালে মানুষকে দিনে অন্তত ১০ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন-ডি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আর যদি যথেষ্ট সময় ধরে সূর্যালোকের সংস্পর্শে না আসা হয়, তাহলে সারা বছরই ১০ মাইক্রোগ্রাম করে ভিটামিন-ডি খেতে বলা হয়।

ইংল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য বিভাগ মনে করছে, করোনাভাইরাসে লকডাউনের সময় মানুষকে ঘরে থাকতে বলার কারণে তারা সূর্যালোকের সংস্পর্শ বঞ্চিত এবং ফলে প্রয়োজনীয় ভিটামিন-ডি বঞ্চিত হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাসে যেসব পরিবর্তন আনা দরকার

ভারসাম্যপূর্ণ সুষম খাদ্য খেলেই মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কার্যকর থাকে, আলাদা কোনো খাবার বা খাদ্য উপাদান রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার হঠাৎ উন্নতি সাধন করবে না।

শুধু খাবার থেকে যথেষ্ট পরিমাণ ভিটামিন-ডি পাওয়া একটু কঠিন হতে পারে। তবে মাছ, ডিম, দইয়ের মতো খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-ডি রয়েছে।