ধনীরা কেন বেশি আক্রান্ত হচ্ছে করোনায়?

বাংলাদেশে করো’না ম’হামা’রি ছড়িয়ে পড়েছে। এখন শুধু ঢাকার মধ্যেই সং’ক্রম’ণ সীমাবদ্ধ নেই, চট্টগ্রামসহ সারাদেশেই করো’না ছড়িয়ে পড়েছে। লক্ষণীয় ব্যাপার যে, করোনার যে সং’ক্রম’ণ হচ্ছে তা গরীব মানুষের চেয়ে ধনীদের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, এখন পর্যন্ত যে ৩২ হাজারের বেশি মানুষের করো’না শনা’ক্ত হয়েছে, তাঁর মধ্যে উচ্চবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্তদের সংখ্যাই বেশি।

কারণ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি বড় শিল্পগ্রুপ এবং বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা করো’নায় আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন। এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম করো’নায় আ’ক্রা’ন্ত হয়ে মৃ’ত্যু’বরণ করেছেন। এছাড়াও আ’ক্রা’ন্ত হয়েছে এই গ্রুপের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তা।

করো’নায় আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন হা-মিম গ্রুপের এ কে আজাদ। এছাড়াও এপেক্স গ্রুপের নজরুল এলাহীর স্ত্রী সহ করোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন। এই প্রেক্ষিতেই প্রশ্ন উঠেছে যে, বাংলাদেশে ধনীরা কেন বেশি আ’ক্রা’ন্ত হচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কয়েকটি বড় কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে-

১. ব্যবসায়িক কারণে ঘরের বাইরে যাওয়া: ধনীরা তাঁদের ব্যবসায়িক কারণে ঘরের বাইরে বেশি বের হচ্ছেন, ঘরবন্দি থাকার নিষেধাজ্ঞা কম মানছেন। বিভিন্ন কাজে অফিসে যাচ্ছেন বা বিভিন্ন লোকজনের সাথে বৈঠক করছেন। এর ফলে তাঁদের মধ্যে সং’ক্রম’ণ ছড়িয়ে পড়ছে।

২. ধনীরা দুশ্চিন্তা বেশি করেন: ধনীদের বিত্ত বেশি, তাঁরা আয় রোজগার নিয়ে নানারকম দুশ্চিন্তা সবসময় করতে থাকেন। যারা করো’নায় আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন তাঁদের প্রায় সবাইকেই দেখা গেছে যে, করো’নার শুরুতেই হা-হুতাশ করতে, অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি কিভাবে চলবে তা নিয়ে কথা বলতে। করোনা প্রতিরোধের একটি বড় উপায় হলো মানসিক দৃঢ়তা। যখন মানুষ সারাদিন টেনশন করবেন, তখন তাঁর মানসিক অস্থিরতা সৃষ্টি হবে এবং এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে।

৩. বাংলাদেশে ধনীদের চিকিৎসা নিতে অনীহা: আমাদের ধনীরা বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে মোটেই আগ্রহী নন। তাঁদের সর্দি-কাশি হলেও তাঁরা আগে সিঙ্গাপুর, ব্যাংককে চলে যেতেন। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি তাঁদের তীব্র অনাস্থা ছিল।

কিন্তু এখন করো’না সঙ্ক’টের সময় তাঁরা দেশেই বন্দি হয়ে আছেন। চাইলেও বিদেশে যাবার উপায় নেই, চাইলেই বিদেশ থেকে মেডিসিন আনার উপায় নেই। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা থেকে এক প্রকার দুশ্চিন্তা, আত’ঙ্ক তৈরি হচ্ছে। যা করো’নাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

৪. রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা কম: আমরা সাধারণ দেখি যে, ধনীরা শরীর ঠিক রাখতে খাদ্যের ব্যাপারে অনেক সং’যম ব্রত পালন করেন, তাঁরা স্বল্পাহারী হন, কম খান, কম খেয়ে সুস্থ থাকতে চান। তবে এর ফলে তাঁদের যে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তা কমে যায় এবং যেকোন রোগেই তাঁরা সহজেই আ’ক্রা’ন্ত হন। করো’নায় যেহেতু বাংলাদেশে কোন মেডিসিন আবিষ্কার হয়নি, যেহেতু উল্লেখ্য করার মতো কোন চিকিৎসা নেই, এ কারণে ধনীরা সহজেই করো’নায় আ’ক্রা’ন্ত হচ্ছেন।

৫. সং’ক্রম’ণ ছড়াচ্ছে ধনীদের মধ্যে: করো’নায় যেহেতু ধনীদের মধ্যে সং’ক্রম’ণ বেশি, কাজেই একজন ধনী আরেকজন ধনীর সঙ্গে যখন মেলামেশা করছেন, অফিস-আদালতে যাচ্ছেন, তখন তাঁরা একে অন্যকে সং’ক্রমি’ত করছেন। আর একারণেই এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে যে, করো’না সং’ক্রম’ণ গরীবদের থেকে ধনীদের মাঝে বেশি হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এটার পেছনে কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা কারণ খুঁজতে চান না। তাঁরা মনে করেন যে, করোনা কোন ধনী-দরিদ্র ব্যবধান মানে না। এটা নিছকই কাকতালীয়। তাঁরা স্বাস্থ্যবিধিগুলো মানেননি, শিষ্টাচার পালন করেননি বা অন্য যেকোন কারণে সং’ক্রমি’ত হয়েছেন।

যেকারণে এর মানে এই না যে, একই কাজ করলে গরীবরা সংক্রমিত হবে না। তবে একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, বস্তি এলাকাগুলো দরিদ্র এলাকাগুলোতে করোনার প্রভাব কম কেন সেটা নিয়ে উপযুক্ত কর্তিপক্ষ নিশ্চয়ই গবেষণা করতে পারেন।সূত্র: বাংলা ইনসাইডার।