‘ত্রাণচোর‘ চেয়ারম্যান-মেম্বারের সংখ্যা দাঁড়াল ৭১

অসহায় মানুষকে ঈদের মধ্যে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নগদ অর্থ সহায়তা কর্মসূচির সুবিধাভোগীর তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের দুই চেয়ারম্যান ও তিনজন সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

আজ বৃহস্পতিআার স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর এ নিয়ে মোট ৭১ জন জনপ্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। এদের মধ্যে ২৩ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ৪৫ জন ইউপি সদস্য, একজন জেলা পরিষদ সদস্য এবং দুজন পৌর কাউন্সিলর।

আজ সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত ইউনিয়ন পরিষদের দুই চেয়ারম্যান হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউপির কবির আহমেদ এবং বিজয়নগর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউপির মো. জামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।

আজ সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত ইউপি সদস্যরা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাহের মিয়া, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বোরহান উদ্দিন এবং একই উপজেলার চাঁদপুর ইউপির ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য বিলকিস বেগম।

তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছেন। তাদের এই অপরাধমূলক কার্যক্রমের পারিপ্রেক্ষিতে তাদের দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় বলে সরকার মনে করে। কাজেই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯-এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

একইসময় সাময়িকভাবে বরখাস্তকৃত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পৃথক পৃথক কারণ দর্শানো নোটিশে কেন তাদের চূড়ান্তভাবে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হবে না তার জবাব চিঠি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।