এমপি সোহরাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আদালতে মামলা, প্রতিবাদে মুক্তিযোদ্ধারা

নজরুল ইসলাম খায়রুল
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছেন মোহাম্মদ আলী নামে এক মুক্তিযোদ্ধা।
গতকাল মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) সকালে তিনি আদালতে এ মামলার এজাহার দায়ের করেন। আদালত বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মন্ডল অভিযোগকারীর জবানবন্দি শুনে মামলাটি ফেরত পাঠিয়ে যথাযথ আদালতে মামলাটি দায়েরের পরামর্শ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এমপি অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিনকে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দাবি করে বলেছেন, মহল বিশেষে প্রভাবিত হয়ে মানসিক বিকারগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী এ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করেছেন। মুক্তিযোদ্ধারা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। আর অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাখান করে বলেছেন, সরকারের উন্নয়নে ভীত হয়ে আগামী নির্বাচনে মনোনয়নকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ মামলা করা হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর দায়েরকৃত অভিযোগে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন জনসাধারণের বাড়িঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, হিন্দুদের ধর্মান্তরিত করা, ধর্ষণ করাসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত ছিল। বর্তমানেও এমপি সোহরাব উদ্দিন বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না। ১৯৭১ সালে সোহরাব উদ্দিন ১০ম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে ইসলামী ছাত্রসংঘের পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার চাচা মোহাম্মদ আলী তৎকারীন ইউপি চেয়ারম্যান ও শান্তি কমিটির পাকুন্দিয়া থানা কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। চাচার নির্দেশে সোহরাব উদ্দিন পাকিস্তান রক্ষার নামে স্থানীয় যুবকদেরকে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করেন। ১৯৭১ সালের ১৮ আগস্ট দুপুরে সোহরাব উদ্দিন আরো দুই রাজাকারকে নিয়ে পাকুন্দিয়ার পুলের ঘাট এলাকার সত্যেন্দ্র মোহন মজুমদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় সত্যেন্দ্র মোহন মজুমদারকে তার বাড়ির পুকুর পাড়ে নিয়ে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এছাড়া ১৯৭১ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় পাকুন্দিয়া শান্তি কমিটির সভাপতি হাদিউল ইসলাম ও সহসভাপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে হোসেনন্দি বাজারে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের দোকানপাটে ব্যাপক লুটতরাজ করে ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়। এদিকে সংসদ সদস্য ও কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অভিযোগ আনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাসহ আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা এটিকে সাজানো ঘটনা হিসেবে মনে করছেন। পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কামান্ডার বোরহান উদ্দিন জানান, অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন একজন ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সোহরাব উদ্দিন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। এমপি সোহরাব উদ্দিনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতেই বিকারগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মহল বিশেষের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে এমনটি করেছেন। একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনায় পাকুন্দিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা বিব্রত বলে তিনি জানান। পাকুন্দিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুজিবুর রহমান জানান, জামায়াত-শিবিরের আর্থিক সহায়তায় প্রভাবিত হয়ে মানসিক বিকারগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী এমনটি করেছেন। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানান। পাকুন্দিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোতায়েম হোসেন স্বপন জানান, এমপি অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিন কখনো স্বাধীনতাবিরোধী ছিলেন না। একাত্তরে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। সোহরাব উদ্দিন এলাকার উন্নয়নের বিপ্লব ঘটিয়েছেন। বিপুল জনপ্রিয় এ নেতার বিরুদ্ধে এ ধরণের অভিযোগ পাগল ও মানসিক বিকারগ্রস্ত ছাড়া কেউ করবে না বলে তিনি জানান।
এব্যাপারে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন জানান, তিনি ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
১৯৬৬ সালের ছয়দফা ও ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানে ভুমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি নিষ্টার সাথে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন। তার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি মহল আগামী নির্বাচনে মনোনয়নকে বাধাগ্রস্ত করতেই বিকারগ্রস্ত একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দিয়ে এমন কাল্পনিক অভিযোগ এনেছেন বলে তিনি জানান।

Sultan Rayhan Uddin

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries