বাজিতপুরে বোরো ধানে চিটা, দিশেহারা কৃষক

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এখন সারা দেশের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ দিশেহারা। এই দুর্যোগময় সময়ে হাওরের প্রবেশদ্বার বলে পরিচিত বাজিতপুরে ১১টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার চাষী বোরো ধানে চিটা দেখে হতাশায় নিমজ্জিত।

কৃষকের একমাত্র সম্বল এই বোরো ফসলের ক্ষতি হওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা।

হাওর ঘেঁষা এ এলাকার কৃষক বিশেষ করে প্রান্তিক চাষীদের বোরো ধানের উপরই তাদের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে। বছরের সিংহভাগ সময়ের খাদ্যের প্রধান উৎস এ বোরো ধান।

স্বাবলম্বী কৃষক বছরের খাদ্য সংরক্ষণ ও উদ্বৃত্ত ধান বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করেন। কিন্তু এবার বেশ কিছু প্রান্তিকচাষী তাদের জমিতে নতুন জাতের ব্রি-৮১ ও ব্রি-২৮ আবাদ করে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন।

ব্রি-২৮ ও ৮১ জাতের বেশীর ভাগ জমির ধানই চিটা হয়ে পড়েছে। আগামী বছর কিভাবে সংসার চালাবেন তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার কৃষক।

নবুয়িরা গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ কামল মিয়া ২৮০ শতাংশ  জমিতে ধান লাগিয়েছেন, যার  ১২০ শতাংশ জমির ধান চিটা হয়ে গেছে, গাছের অর্ধেক শুকিয়ে খড় হয়ে গেছে। অন্যান্য জমিও কমবেশি ক্ষতি হয়েছে।

দিশেহারা এই কৃষক এখন ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছেন না।

পিরিজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল জুয়েল জানান, তার এলাকায় ব্রি ধান ২৮ চিটায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। ৪০ থেকে ৭০ ভাগ জমির বোরো ফসল ছুচা (চিটা) নষ্ট হয়েছে।

করোনা ভাইরাসের দুর্যোগময় সময়ে কৃষক কিভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে নিবে এই নিয়ে আমি চিন্তিত।