আদমদীঘিতে মাদকের আস্তানায় জনতার অভিযান, ভাঙচুরের পর আগুন
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় মাদকের আস্তানা হিসেবে পরিচিত দুটি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উপজেলার পশ্চিম বাজারের পাইকপাড়া সড়কসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ৬ থেকে ৮টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা সদরের ডহরপুর মৌজায় বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের পাশে একটি অটোমেটিক চালকলের আশপাশে গড়ে ওঠা বস্তি দুটিতে দীর্ঘদিন ধরে গাঁজা, হেরোইন ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকের কারবার চলছিল। এতে স্থানীয় কিশোর, তরুণ ও বয়স্কদের অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের কারবার বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে বুধবার মাইকিং করে বস্তি উচ্ছেদের ঘোষণা দেন উপজেলার পাইকপাড়া, ডালম্বা ও ডহরপুর গ্রামের বাসিন্দারা।
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে শত শত মানুষ বস্তি দুটিতে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা ঘরগুলোতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় বস্তির বাসিন্দারা, বিশেষ করে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা, সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ওই সড়কে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীদের অনেকে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তবে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার সময় বিপুলসংখ্যক মানুষ সেখানে জড়ো হলেও পুলিশ বা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, ঘটনার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রথমে বাধা দেওয়া হয়। পরে তাঁদের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামিরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে।”

