নিকলীতে উপজেলা প্রশাসনের অনিয়মের প্রতিবাদে মানববন্ধন

জয়দেব আচার্য্য, নিকলী (কিশোরগঞ্জ):

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অবৈধ নিয়োগ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১১টায় নিকলী গার্লস স্কুলের মোড়ে উপজেলা সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। তারা এসব বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া, নিকলী সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ মো. হারুন অল কাইয়ুম, বিএনপি নেতা মহি উদ্দিন, শাহ উদ্দিন মেম্বার, নিকলী সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আবদুল মান্নান, উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান স্বাধীন ও যুবদল নেতা ফরিদ উদ্দিনসহ অনেকে।

এ বিষয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, সম্প্রতি ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে ফলাফল ঘোষণার পর স্থানীয় বিভিন্ন নেতাকর্মীর মধ্যে প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে প্রার্থীদের যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি বাস্তবতা বিবেচনায় যোগ্য প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন পক্ষের সুপারিশের ভিত্তিতেও কয়েকজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীদের চূড়ান্ত করার পর তাদের বিষয়ে যথাসম্ভব খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, অনেকে অনুমাননির্ভর তথ্য দেওয়ায় অনিচ্ছাসত্ত্বেও দু-একজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তবে চূড়ান্ত তালিকায় নির্বাচিত সবাই আওয়ামী লীগপন্থী—এমন অভিযোগ সঠিক নয়।

তিনি জানান, নিকলী ছোট উপজেলা হওয়ায় দুটি পদে মোট ৫৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সুপারিশ ছিল অনেক বেশি। ফলে যাদের সুপারিশ করা প্রার্থী নির্বাচিত হননি, তাদের কেউ কেউ পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ দাবি করছেন।

রেহানা মজুমদার মুক্তি বলেন, “নিকলীবাসী যদি প্রমাণসহ ফ্যাসিস্টদের তালিকা দিতে পারেন, তাহলে আমরা ফলাফল পুনরায় যাচাই করে অভিযুক্তদের বাদ দিয়ে চূড়ান্ত তালিকা করার উদ্যোগ নেব। এবার গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা হবে।”

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ