১৭ বছর পর ভাত খেলেন ইনু মিয়া, নিজ হাতে খাওয়ালেন প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম
কুলিয়ারচর(কিশোরগঞ্জ):
প্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতি অগাধ ভালোবাসা থেকে ১৭ বছরেরও বেশি সময় ভাত না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ৮০ বছর বয়সী কৃষক ইনু মিয়া। অবশেষে সেই প্রতিজ্ঞার অবসান ঘটল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাত খাওয়া শুরু করেন তিনি।
এদিন দুপুর আড়াইটার দিকে কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সংসদ সদস্য ও পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম নিজে ইনু মিয়ার গ্রামের বাড়ি রামদী ইউনিয়নের পশ্চিম জগৎচর গ্রামে গিয়ে তাকে ভাত খাইয়ে দেন। প্রিয় নেতার হাতে ভাত তুলে পেয়ে হাসিমুখে দীর্ঘদিনের অনশন ভাঙেন ইনু মিয়া।
জানা যায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন ইনু মিয়া। সেই ক্ষোভ থেকেই প্রতিজ্ঞা করেন—বিএনপি ক্ষমতায় না আসা পর্যন্ত ভাত খাবেন না। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি ভাত স্পর্শ করেননি; কলা, রুটি, বিস্কুটসহ শুকনো খাবার খেয়েই দিন কাটিয়েছেন।
নির্বাচনের আগে স্থানীয় এক কর্মীসভায় নেতাকর্মীরা তাকে ভাত খাওয়াতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তখনই শরীফুল আলম তাকে কথা দেন—বিএনপি ক্ষমতায় এলে নিজ হাতে ভাত খাওয়াবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই বৈশাখের এই দিনে তার বাড়িতে যান প্রতিমন্ত্রী।
ইনু মিয়াকে ভাত খাওয়ানোর পর প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, “দলকে ভালোবেসে এমন ত্যাগ বিরল। আমরা তার পাশে থাকবো।” তিনি ইনু মিয়ার জন্য একটি ঘর নির্মাণ ও বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি মাদকবিরোধী কঠোর অবস্থানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইনু মিয়া বলেন, “দলের জন্য করা শপথ আজ পূরণ হয়েছে। প্রিয় নেতা নিজ হাতে ভাত খাইয়েছেন—এটাই আমার জীবনের বড় পাওয়া।” তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, জীবদ্দশায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা পূরণ হয়নি। এখন তার ইচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা।
ইনু মিয়ার স্ত্রী জোছনা খাতুন জানান, পরিবারের কেউই এতদিন তাকে ভাত খাওয়াতে পারেননি। “আজ তিনি ভাত খেয়েছেন—এটা আমাদের জন্য আনন্দের দিন,” বলেন তিনি।
উল্লেখ্য, ইনু মিয়া বর্তমানে কর্মক্ষম নন। সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পাওয়ার পর থেকে লাঠির সাহায্যে চলাফেরা করেন এবং ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
এসময় জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

