বেশির ভাগই সহায়তার বাইরে
শ্রমিকেরা আর্থিক সহায়তার আওতা বাড়ানোর দাবি করেছেন। তা সম্ভব না হলে ১০ টাকা কেজি দরে চাল ও সাশ্রয়ী দামে নিত্যপণ্য চান।
দেশের পরিবহন খাতের ২ লাখ ৩৫ হাজার শ্রমিককে এককালীন আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দিচ্ছে সরকার। ইতিমধ্যে শ্রমিকদের বড় অংশের কাছে এ টাকা চলেও গেছে। তবে শ্রমিকনেতারা বলছেন, পরিবহন খাতে শ্রমিকসংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ। সে তুলনায় সরকারের সহায়তার
হার নগণ্য।
শ্রমিকেরা আর্থিক সহায়তার আওতা আরও বাড়ানোর দাবি করেছেন। তা সম্ভব না হলে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল ও সাশ্রয়ী দামে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান প্রথম আলোকে বলেন, করোনা নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধে সব শ্রমিকই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সবাই সহায়তা পাওয়ার দাবি রাখেন। সরকারের আর্থিক সহায়তা খুব কমসংখ্যক শ্রমিকই পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ১০ টাকা কেজি দরে চাল ও সুলভ মূল্যে অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়া হলে সব শ্রমিক সুফল পেতেন। এ বিষয়ে সরকারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, দেশে গত বছরের মার্চে করোনা মহামারি শুরুর পর দুই দফায় পাঁচ মাসের বেশি যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধ রাখতে হয়েছে। পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলও কমেছে। ফলে মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকায় শীর্ষস্থানেই রয়েছেন পরিবহন খাতের শ্রমিকেরা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ১৩ জুলাই ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এর আওতায় ১৭ লাখের কিছু বেশি দিনমজুর, পরিবহনশ্রমিক, নৌশ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে এককালীন আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ জন্য ৪৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
পরিবহন খাতের শ্রমিক সংগঠনের নেতা ও সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাঁরা সহায়তার তালিকায় আছেন, তাঁদের পরিবারে কিছুটা হলেও স্বস্তি এসেছে। তবে এই তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন বিপুলসংখ্যক শ্রমিক।
দেশে পরিবহন খাতে শ্রমিকসংখ্যা কত, তার কোনো জরিপভিত্তিক তথ্য নেই। সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সংখ্যাটি ৬০ লাখ বলে দাবি করে। তবে একজন শ্রমিকনেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, পরিবহন খাতে সার্বক্ষণিক কাজ করেন এমন শ্রমিকের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ লাখ হবে। এর মধ্যে বেশি সংকটে থাকা অন্তত ১৫ লাখ শ্রমিককে সহায়তার আওতায়
আনা দরকার।
করোনাকালে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বাসশ্রমিকেরা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দাবি, বাস-মিনিবাসে শ্রমিক সংখ্যা ১৮ থেকে ২০ লাখ। শ্রমিকনেতারা মনে করেন, এর মধ্যে নিয়মিত শ্রমিক ১০ লাখের মতো।
পরিবহনশ্রমিকদের মাসিক কোনো বেতন নেই। তাঁরা রাস্তায় নামতে পারলে আয় করতে পারেন, নইলে নয়। ঢাকা-সিলেট রুটের হানিফ পরিবহনের বাসচালক সোহেল রানা জানান, একটি ট্রিপে তাঁর ১ হাজার ৩০০ টাকার মতো আয় হয়। মাসে ২০ হাজার টাকার মতো। তবে এবার করোনাকালে মাসিক গড় আয় অর্ধেকে নেমেছে। বাস বন্ধ থাকলে রোজগার একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়।
সোহেল রানার দুই সন্তান। স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। তাঁর এক ভাই ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান। আর দুই ভাই বাসের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। সোহেল রানা বলেন, ‘ধারকর্জ করে চলব, তা–ও উপায় নেই। সবাই বিপদে আছে।’ তিনি সরকারি কোনো সহায়তা পাননি। তবে শ্রমিক ইউনিয়ন থেকে দুই দফা চাল ও কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহায়তা পেয়েছিলেন।
এদিকে জ্বালানি তেল পরিবহনে নিয়োজিত শ্রমিকদের সমিতি বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ফেডারেশন ১৪ জুলাই সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) চিঠি দিয়েছে। এ ছাড়া ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের প্রায় চার লাখের মতো শ্রমিকের জন্য সহায়তা চান এ খাতের নেতারা।
বাংলাদেশ আন্তজেলা ট্রাকচালক ইউনিয়নের সভাপতি তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা সরকারের কাছে প্রতিটি টার্মিনালে ১০ টাকা কেজি দরে চাল এবং স্বল্প মূল্যে ডাল ও তেল বিক্রি করার দাবি জানিয়েছেন।
Source: Prothomalo

