ছড়াকার মোস্তফা কামাল সাগরের দর্জিবুড়োর মর্জি-মেজাজ

 

সাহিত্য ডেস্ক
ছোট বেলায় সবাই যখন খেলাধুলা, হই হুল্লোড়ে মেতে থাকত তখন ছোট্ট কিশোরটি কিনা মেতে থাকত ছড়া নিয়ে। কথা বলত ছন্দ মিলিয়ে। হয়তো তাকে দেখে কেউ কেউ তখনই অনুমান করেছিল বটে, এ ছেলে বাকি দশজনের চেয়ে আলাদা। স্বভাবে শান্তশিষ্ট। ঠা-া প্রকৃতির এই কিশোরটি বড় হতে লাগলো। ছড়া, কবিতায় তার ঝোঁক প্রবল হতে লাগলো ক্রমশ। তাই পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে পুরো সময়টা কাটিয়ে দিত ছড়া কবিতা লেখায়।
ছেলেটি মোস্তফা কামাল সাগর। ডাক নাম সাগর। তিন ভাইয়ের মধ্যে মোস্তফা কামাল সাগর বড়। জন্ম ঢাকা জেলার দোহার উপজেলায় । ১৯৮৩ সালের ১০ই জানুয়ারি। পিতা প্রয়াত শেখ আমিনউদ্দিন। মাতা জোহরা খাতুন। জন্ম দোহারে হলেও বাবার কর্মসুত্রে মোস্তফা কামাল সাগরের বেড়ে ওঠা সিলেটের মৌলভীবাজারে। পড়াশোনা মৌলভীবাজার সরকারী উচ্চবিদ্যালয় ও মৌলভীবাজার সরকারী কলেজ থেকেই। পেশাগত জীবনে বর্তমানে তিনি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। পারিবারিক জীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক। বড় ছেলে জারীর ও ছোট ছেলে জাবীর। স্ত্রী মাহমুদা আক্তার।মোস্তফা কামাল সাগরের লেখালেখির ঝোঁক স্কুল জীবন থেকেই। তার লেখা ছড়া বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ পেয়েছে পত্রপত্রিকায় ও লিটল ম্যাগগুলোতে। তবে খুব সম্প্রতি মোট ১৪টি ছড়ার সমন্বয়ে ‘পাপড়ি’ আয়োজিত দেশব্যাপী পা-ুলিপি পুরস্কারের অংশ হিসেবে ‘পাপড়ির’ অর্থায়নে প্রকাশিত হয় “দর্জিবুড়োর মর্জি-মেজাজ” নামক একটি শিশুতোষ ছড়ার বই। যা পাঠক মহলে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।চমৎকার সহজ সরল শব্দ দিয়ে ছড়াগুলো লিখেছেন এই জনপ্রিয় ছড়াকার। শিশুতোষ দর্জিবুড়োর মর্জি-মেজাজ বইটিতে স্মৃতির ঝাঁপি, পাসওয়ার্ড, দর্জিবুড়োর মর্জি-মেজাজ, সাধু মোশারফ সহ প্রতিটা ছড়াই মন কেড়েছে শিশু থেকে শুরু করে সকল শ্রেণীর পাঠকের।এর বাইরেও কবি ও ছড়াকার মোস্তফা কামাল সাগর জনপ্রিয়তা পেয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও। তার রয়েছে দেশব্যাপী অজস্র পাঠক। সামাজিক ত্রুটি, বিচ্যুতিগুলোকে তিনি সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেন তার ছড়ার মাধ্যমে। ফেসবুকে তিনি ধারাবাহিক “নাজেহাল কাব্য” লিখেও বেশ আলোচিত।তবে কবি ও ছড়াকার মোস্তফা কামাল সাগর মনে করেন, তরুণ যুবকদের উচিৎ বইমুখি হওয়া। সাহিত্যর প্রতি মনোনিবেশ করা। সাহিত্যই পারে তাদেরকে বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তার লোভে অনেকেই মানহীন গল্প, উপন্য্সা, কবিতা লিখছেন এমনটা উল্লেখ করে তিনি বলেন লেখকদেরও সমাজ ও দেশের প্রতি একটা দায়িত্ববোধ ও দায়বদ্ধতা থাকা উচিৎ। সমাজ গঠনে তাদের অবদান রাখা উচিৎ। তরুণ যুবকদেরকে সাহিত্যমুখী করতে সবাইকে তিনি উদাত্ত আহ্বানও জানিয়েছেন।

editor

Lorem Ipsum is simply dummy text of the printing and typesetting industry. Lorem Ipsum has been the industry's standard dummy text ever since the 1500s, when an unknown printer took a galley of type and scrambled it to make a type specimen book. It has survived not only five centuries