১৩৫ রান করতেই ঘাম ঝরল ভারতের
নিউজ ডেস্ক:
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৩৫ রান তাড়া করতে নেমে ঘাম ঝরাতে হলো ভারতকে। ব্যর্থ টপ অর্ডার। শ্রেয়স আয়ার ও লোকেশ রাহুলের ব্যাটে কোনো রকমে জিতল ভারত।
১৩৫ রান তাড়া করতে নেমে পড়ল ৭ উইকেট। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিরকারণে ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে ৪ রানে জিতে সিরিজে ২-০ এগিয়ে গেল সফরকারীরা।
নিউজিল্যান্ডে ওয়েলিংটনে ভারতের কী দশা হতে পারে তার আন্দাজ মিলেছিল প্রথম ইনিংসে কিউইদের ব্যাটিং দেখেই। এদিন সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে খেলা শুরু হতে দেরি হয়। সময় নষ্ট হওয়ায় ম্যাচ ৫০ ওভার থেকে কমিয়ে ৪৭ ওভার করা হয়। এই ম্যাচেও টস জিতল ভারত। টস জয়ই হয়তো ভারতকে জিতিয়ে দিল।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বিপদে পড়ে যায় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। দলের টপ অর্ডার ব্যর্থ। উইল ইয়ং, টিম সেইফার্ট, হেনরি নিকোলস, কেউ রান পাননি। আগের ম্যাচে নতুন বলে কারিশমা দেখান অর্শদীপ সিংহ। এই ম্যাচে সেই দায়িত্ব নিলেন আকিব নবি। ইয়ং (৬) ও সেইফার্টকে (০) আউট করলেন তিনি। নিকোলসেল (১১) উইকেট নিলেন অংশুল কম্বোজ।
দলের ব্যর্থতার দিনে হাল ধরেন ড্যারেল মিচেল। অবশ্য তাকে সাহায্য করেন শুভমান গিল। ২১ রানের মাথায় তার লোপ্পা ক্যাচ ছাড়েন ভারতীয় অধিনায়ক। নইলে হয়তো ১০০ রানও করতে পারত না নিউজিল্যান্ড। নতুন জীবন পেয়ে তা কাজে লাগান কিউয়ি ব্যাটার।
মিচেল এক দিকে টিকে থাকলেও অপর প্রান্তে উইকেট পড়ছিল। একই ওভারে টম লাথাম (৭) ও গ্লেন ফিলিপ্সকে (০) আউট করেন গুরনুর ব্রার। আগের ম্যাচের পর এই ম্যাচেও নজর কাড়লেন ব্রার। তার বলের অতিরিক্ত বাউন্স সমস্যায় ফেলে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের।
মিচেল ও অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের মধ্যে ৫৯ রানের জুটি হল। তবে রান তোলার গতি ছিল খুবই কম। ফলে সমস্যা বাড়ছিল। বাধ্য হয়ে ৫৫ রানের মাথায় অক্ষর পটেলের বলে বড় শট মারতে গিয়ে আউট হন মিচেল। তার পরেই ৩১ রানের মাথায় স্যান্টনারকে ফেরান ব্রার। ৪১ ওভারে ১৩৪ রানে অল আউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
১৩৫ রানের মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমেও বিপদে পড়ে যায় ভারত। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই শূন্য রানে খোঁচা মেরে আউট হন শুভমান গিল। কোহলি বাউন্ডারি মেরে শুরু করলেও ৭ রানের মাথায় কাভার ড্রাইভ মারতে গিয়ে আউট হন।
রোহিত শর্মা দুটি ছক্কা মারেন। তাড়াহুড়া করতে গিয়ে কাইল জেমিসনের বলে বাজে শট খেলে আউট হন। ৭ রানে আউট হলেন অক্ষর প্যাটেল। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের কৃতিত্বের তুলনায় এই সব উইকেটের দায় ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের। ওভার প্রতি যেখানে মাত্র ২.৫ রান দরকার, সেখানে কেন বাজে শট মারতে গেলেন তারা।
ভারতের ইনিংস সামলান শ্রেয়াস আইয়ার ও লোকেশ রাহুল। তারাই দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু শেষ দিকে সেই বাজে শট খেলতে গিয়ে ৩০ রানে আউট শ্রেয়াস।
নমন ধীর দুটি চার মারার পর ছক্কা মারতে গেলেন। বাউন্ডারিতে ক্যাচ ধরলেন সেইফার্ট। তবে তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সেইফার্টের পা বাউন্ডারির দড়িতে লেগেছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদিও তৃতীয় আম্পায়ার নমনকে (১২) আউট দেন। তখনও ২৪ রান বাকি ভারতের। কম্বোজ (১) শুরুতেই ছক্কা মারতে গিয়ে ফিরলেন।
এক দিকে ছিলেন লোকেশ রাহুল। তিনি তাড়াহুড়া করেননি। কিন্তু যেভাবে অন্য দিকে একের পর এক উইকেট পড়ছিল, তাতে পুরো খেলা হলে কী ফল হত তা বলা মুশকিল। কারণ ১১১ রানে ৭ উইকেট পড়ে গিয়েছিল ভারতের। রাহুলের সঙ্গে ক্রিজে ছিলেন আকিব নবি। তিনি ব্যাট করতে পারলেও এই উইকেটে ব্যাটিং সহজ ছিল না।
ভারতের যখন জয়ের জন্য ২২ রান দরকার, তখন বৃষ্টি শুরু হল। আর থামল না। তখন ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে ৪ রানে এগিয়ে ভারত। সেই রানেই জিতল তারা। ২৬ রানে অপরাজিত থাকলেন রাহুল।

