পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক দাঁড়িপাল্লা, কর্মকর্তাকে খাগড়াছড়ি বদলি

নিউজ ডেস্ক:

ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি রাখা নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। এর মধ্যেই এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে খাগড়াছড়িতে বদলি করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তার নাম মু. আব্দুল্লাহ আল যোবায়ের। তিনি বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা। প্রেষণে তিনি এনসিটিবির গবেষণা কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের লাইব্রেরিয়ানের অতিরিক্ত দায়িত্বেও ছিলেন যোবায়ের।

বদলির পর তাকে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক পদে নতুন করে পদায়ন করা হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা মু. আব্দুল্লাহ আল যোবায়েরকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ বেতন ও বেতনক্রমে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রভাষক পদে বদলি বা পদায়ন করা হয়েছে।

তাকে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্নে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন। পাশাপাশি নিজ পিডিএসে লগইন করে অবমুক্তি ও যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

এদিকে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বিতর্কের পর ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই থেকে প্রতীকটি বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে এনসিটিবি। এর অংশ হিসেবে গত ২২ অক্টোবর রাত থেকে বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে পাঠানো বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীক পরিবর্তনের পর আবার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

এনসিটিবির প্রধান সম্পাদক অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ে চলে যাওয়া বইগুলো সংগ্রহ করে প্রতীকটি পরিমার্জনের পর শিক্ষার্থীদের কাছে সরবরাহ করা হবে। আপাতত বইটির ছাপার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিতরণের জন্য মাঠে পাঠানো বইও সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ছাপাখানা মালিকরা জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বই ছাপানো হচ্ছে প্রায় ৩৮ লাখ কপি। বিতর্কিত ছবি থাকা বইটির ছাপা, বাঁধাই ও সরবরাহের কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ে পাঠানো বই সংগ্রহ করে সংশোধন করতে হলে বাড়তি খরচ ও সময় লাগবে।

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ