পাকুন্দিয়ায় অভিযোগের প্রতিবাদে বিএনপি নেতা জুয়েলের সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার: কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া মো. জুয়েল মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ ও বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, মসজিদের উন্নয়নের জন্য পাওয়া ১৮ হাজার টাকা তিনি মসজিদের সাবেক সভাপতির কাছে জমা রেখেছেন। আর টিসিবির পণ্য কিনে দেওয়ার জন্য এক নারীর কাছ থেকে নেওয়া ৫০০ টাকা পরে তাঁকে ফেরত দিয়েছেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে নিজের বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন জুয়েল মিয়া।
সম্প্রতি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর নিজের অবস্থান তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জুয়েল মিয়া বলেন, আনোয়ারখালী গ্রামের একটি মসজিদের উন্নয়নের জন্য প্রথমে ১৯ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিমন মিয়াকে। পরে পৌর বিএনপির সভাপতি এসএএম মিনহাজ উদ্দীন ও সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম সুজন তাঁর হাতে আরও ১৮ হাজার টাকা দেন। মসজিদের উন্নয়নকাজ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মতবিরোধ থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জুয়েল মিয়া বলেন, তিনি মসজিদের মুসল্লিদের বিষয়টি জানান এবং পরে ১৮ হাজার টাকা মসজিদের সাবেক সভাপতির কাছে জমা রাখেন। তবে প্রথমে দেওয়া ১৯ হাজার টাকা বর্তমানে কার কাছে রয়েছে, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।
বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে জুয়েল মিয়া বলেন, ওই নারীর কাছ থেকে তিনি টিসিবির পণ্য কিনে দেওয়ার জন্য ৫০০ টাকা নিয়েছিলেন। পরে পণ্য দিতে না পারায় টাকা ফেরত দিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী লায়লা খাতুন বলেন, আমি টিসিবির মাল কেনার জন্য জুয়েলকে ৫০০ টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু টিসিবির মাল দিতে পারেনি। পরে আমার টাকা আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে।
দলীয় পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্তের বিষয়ে জুয়েল মিয়া বলেন, তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। প্রায় ২০ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জুয়েল মিয়া আরও অভিযোগ করেন, দলীয় একটি বিষয়ে স্বাক্ষর না দেওয়া এবং এক লাখ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে পৌর বিএনপির সভাপতির সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। তাঁর দাবি, এ বিরোধের জেরেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জুয়েল মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
পাকুন্দিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি এসএম মিনহাজ উদ্দিন বলেন, জুয়েল মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়নি, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বহিষ্কার করা হলে তাঁকে শোকজ দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। এ ছাড়া কোনো প্রার্থীর পক্ষে স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য দল আমাকে কোনো নির্দেশ দেয়নি। তিনি বললেই তো হবে না। আমি স্বাক্ষর নিতে গিয়েছিলাম কি না, তা জানতে চাইলে বাকি ১৭ জন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে জিজ্ঞাসা করতে পারেন।

