সান্তাহারে জুয়েলার্সে হামলা, ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতের পর স্বর্ণালংকার লুট

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে জুয়েলার্সের দোকানে ঢুকে দ্বীপ হাসান (৩৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাত এবং স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সান্তাহার পৌর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রানা খান (৩৮) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।

শনিবার সকালে আহত ব্যবসায়ী দ্বীপ হাসান বাদী হয়ে আদমদীঘি থানায় মামলাটি করেন। তিনি কলসা রথবাড়ী এলাকার মৃত জুলহাস মন্ডলের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সান্তাহার পৌর শহরের পোস্ট অফিস রোড সংলগ্ন মাসুদ জুয়েলার্সে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় রানা খানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে রানা খানের হাতে থাকা বার্মিজ চাকু দিয়ে দ্বীপ হাসানকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেটে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দ্বীপ হাসান ডান হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করার চেষ্টা করলে তার বাম হাতের মধ্যমা আঙুলের গোড়ায় গুরুতর কাটা জখম হয়। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, এ সময় দোকানের শোকেস থেকে দুটি স্বর্ণের চেইন ও দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। চেইন দুটির মোট ওজন এক ভরি এবং কানের দুলের ওজন প্রায় আধা ভরি। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দোকানের বাইরে থেকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দরজা ও থাই গ্লাস ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগও করা হয়েছে।

আহত ব্যবসায়ী চিৎকার করে সাহায্য চাইলে নাজু বেগম, বিদ্যুৎ ও স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে আসেন। তখন অভিযুক্তরা মামলা করলে দ্বীপ হাসান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে স্থানীয়রা আহত দ্বীপ হাসানকে সিএনজিযোগে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে তার হাতে আটটি সেলাই দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন। পরে তিনি ২১ থেকে ২২ আগস্ট নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে স্বজন, সাক্ষী ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় আসায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ