কুলিয়ারচরে দেয়াল নির্মাণ নিয়ে সংঘর্ষ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বড় ভাইসহ আহত ৪

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ):

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে দেয়াল নির্মাণে বাধা দেওয়ায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বৃদ্ধ বড় ভাই, তাঁর স্ত্রী, ছেলে ও শ্যালিকাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছোট ভাই ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে।

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দ্বাড়িয়াকান্দি নয়াবাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহতরা হলেন—দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. জসিম উদ্দিন (৬৫), তাঁর স্ত্রী মোছা. নাছিমা বেগম (৫৫), ছেলে মাওলানা তানভীর আহমদ (২২) ও শ্যালিকা মোছা. আওলিয়া বেগম (৫২)।

ঘটনার পর ওইদিন রাতেই কুলিয়ারচর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন তানভীর আহমদ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দ্বাড়িয়াকান্দি নয়াবাড়ী এলাকার মৃত হিম্মত আলীর ছেলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জসিম উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই মো. সাহাজ উদ্দিনের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশও হয়েছে।

অভিযোগ করা হয়, বিরোধ চলমান থাকা অবস্থায় রোববার বিকেলে সাহাজ উদ্দিন লোকজন নিয়ে জসিম উদ্দিনের বসতবাড়ির উত্তর পাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেন। এ সময় জসিম উদ্দিন ও তাঁর ছেলে তানভীর আহমদ দেয়াল নির্মাণে বাধা দিলে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়।

এ সময় স্বামী ও ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে নাছিমা বেগম ও তাঁর বোন আওলিয়া বেগমও হামলার শিকার হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাহাজ উদ্দিন ধারালো দা দিয়ে নাছিমা বেগমের মাথা ও কপালে আঘাত করেন। অন্যদেরও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে আওলিয়া বেগমের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা চলে যায়। যাওয়ার সময় ভবিষ্যতে দেয়াল নির্মাণে বাধা দিলে হত্যার পর লাশ গুমের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তানভীর আহমদ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও তাঁর বাবা জসিম উদ্দিন, মা নাছিমা বেগম ও খালা আওলিয়া বেগম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাহাজ উদ্দিন। তিনি বলেন, যে জায়গায় দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছিল, সেটি তাঁদের নিজস্ব সম্পত্তি। দেয়াল নির্মাণের সময় তাঁর ভাবী নাছিমা বেগম কয়েকটি বাঁশ কেটে ক্ষতি করার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এ সময় নাছিমা বেগম কোদাল দিয়ে তাঁকে কোপ দিতে এলে তিনি সেটি ধরে ফেলেন। পরে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কোদালের হাতলের আঘাতে তাঁর ভাবীর মাথা ফেটে যায়। কাউকে মারধর করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

সাহাজ উদ্দিন আরও বলেন, জায়গাটি নিয়ে এর আগেও একাধিকবার সালিশ হয়েছে। তাঁর দাবি, তাঁর ভাই জসিম উদ্দিন ও পরিবারের সদস্যরা সালিশ না মেনে তাঁদের হয়রানি করে আসছেন। পরে আদালতের নির্দেশে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা জারি হওয়ায় তাঁরা দেয়াল নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

এদিকে, হামলার ঘটনার আগে তানভীর আহমদ তাঁর চাচা সাহাজ উদ্দিনসহ অন্যদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কিশোরগঞ্জে একটি মামলা করেন। মামলাটির সিআর নম্বর ১০৮১/২৬।

আদালতের নির্দেশে দ্বাড়িয়াকান্দি মৌজার সিএস খতিয়ান ৫৪৩ ও আরএস খতিয়ান ৩৯৪-এর সিএস দাগ ৪০৭ ও আরএস দাগ ১২৫৫-এর ১০ শতাংশ বিরোধীয় ভূমিতে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী নোটিশ জারি করে কুলিয়ারচর থানা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিরোধীয় জমিতে দেয়াল নির্মাণের কাজ বন্ধ রয়েছে এবং এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দৈনিক আমার বাংলাদেশ

দৈনিক আমার বাংলাদেশ